নিউইয়র্ক ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস–কাণ্ডে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেলেন পিএসসি কর্মকর্তা

  • আপডেটের সময় : ০৩:০৭:৪৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

এর আগে কৌশিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে আবেদন করেন। তার আইনজীবী ছিলেন মো. শরিফুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে এজাহারে এবং অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট। তার মক্কেল ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০–৬০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের মূল হোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নসহ উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। বিনিময়ে চক্রটি মোটা অঙ্কের টাকা আগাম নিয়ে নিতেন। চক্রটির বিস্তার ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

আরও বলা হয়, নেটওয়ার্কটি বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁস কার্যক্রম পরিচালনায় সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিল এবং তারা পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে কৌশিক দেবনাথ জামিন চাইলে আদালত তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বলেন, আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। হাজতখানা থেকে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রিজন ভ্যানে উঠিয়ে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আত্মসমর্পণ করে ইরানকে সাদা পতাকা ওড়ানোর আহ্বান ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ডলার দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল

১৭ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস–কাণ্ডে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেলেন পিএসসি কর্মকর্তা

আপডেটের সময় : ০৩:০৭:৪৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

এর আগে কৌশিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে আবেদন করেন। তার আইনজীবী ছিলেন মো. শরিফুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে এজাহারে এবং অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট। তার মক্কেল ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০–৬০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের মূল হোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নসহ উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। বিনিময়ে চক্রটি মোটা অঙ্কের টাকা আগাম নিয়ে নিতেন। চক্রটির বিস্তার ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

আরও বলা হয়, নেটওয়ার্কটি বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁস কার্যক্রম পরিচালনায় সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিল এবং তারা পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে কৌশিক দেবনাথ জামিন চাইলে আদালত তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বলেন, আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। হাজতখানা থেকে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রিজন ভ্যানে উঠিয়ে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।

Share this news as a Photo Card