নিউইয়র্ক ০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষসহ ধরা পড়া বেবিচকের সাবেক লাইসেন্স পরিদর্শকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

  • আপডেটের সময় : ১০:০৩:৫৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে ছয় বছর আগে পাইলট লাইসেন্স নবায়ন ও পরীক্ষায় সুযোগ করে দেওয়ার নামে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার মামলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

জানা যায় ,আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ইব্রাহিম জুয়েলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে জহিরুল ইসলাম বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে।

আদালত অর্থদণ্ডের টাকা অভিযোগকারীকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বেবিচকের কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সের (সিপিএল) প্রথম ধাপ ‘এয়ার ল’ পরীক্ষায় ২০১৮ সালে উত্তীর্ণ হন রাকিব হাসান নামের একজন। পরবর্তী ধাপ ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষার জন্য তিনি ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর চার হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু বেবিচকের জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালটেন্ট রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে ওই আবেদন বাতিল করেন। তিনি ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে রাকিবের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

গত ৬ ডিসেম্বর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে বিএফসিতে গিয়ে ওই টাকা দিয়ে আসেন রাকিব। এসময় দুদকের ফাঁদ টিমের সদস্যরা রাশেদকে ধরে ফেলেন।

এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক সেদিনই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালাম ২০২২ সালের ৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। আসামি নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হল।

উল্লেখ্য, মামলার বিচার চলাকালে ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ব্রাজিল-জার্মানির কাতারে নাম লিখিয়েছে ফ্রান্স 

রাজস্ব আদায়ের ৬ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্য পূরণে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী

১০ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ঘুষসহ ধরা পড়া বেবিচকের সাবেক লাইসেন্স পরিদর্শকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

আপডেটের সময় : ১০:০৩:৫৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সাড়ে ছয় বছর আগে পাইলট লাইসেন্স নবায়ন ও পরীক্ষায় সুযোগ করে দেওয়ার নামে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার মামলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

জানা যায় ,আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ইব্রাহিম জুয়েলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে জহিরুল ইসলাম বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে।

আদালত অর্থদণ্ডের টাকা অভিযোগকারীকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বেবিচকের কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সের (সিপিএল) প্রথম ধাপ ‘এয়ার ল’ পরীক্ষায় ২০১৮ সালে উত্তীর্ণ হন রাকিব হাসান নামের একজন। পরবর্তী ধাপ ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষার জন্য তিনি ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর চার হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু বেবিচকের জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালটেন্ট রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে ওই আবেদন বাতিল করেন। তিনি ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে রাকিবের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

গত ৬ ডিসেম্বর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে বিএফসিতে গিয়ে ওই টাকা দিয়ে আসেন রাকিব। এসময় দুদকের ফাঁদ টিমের সদস্যরা রাশেদকে ধরে ফেলেন।

এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক সেদিনই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালাম ২০২২ সালের ৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। আসামি নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হল।

উল্লেখ্য, মামলার বিচার চলাকালে ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

Share this news as a Photo Card