নিউইয়র্ক ০৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২, পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে হাসপাতালে

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫০:৪২ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাসের এক নবজাতকের পা ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় চাচি লতা বেগমকে (৩২) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় শিশুটির চাচা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গতকাল রাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির নাম রিজিক। সে সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের চাঁনগাঁও গ্রামের জহিরুল হক জহির ও সাইফা বেগমের সন্তান।

মামলার আসামিরা হলেন- শিশুটির আপন চাচি লতা বেগম, চাচা কাউছার আহম্মেদ ও দাদা আলমাছ মিয়া। তারা সবাই মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর থেকে চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছে।

মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকেন, এক সঙ্গে কাজ করেন। তারা কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না। তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণে বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্র নেবেই। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা সমাজসেবা অফিসার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। 

আমরা আজ বাচ্চাকে জেলা হাসপাতালে পাঠাচ্ছি জানিয়ে ওসি বলেন, তারা এক্সরে করে মতামত দেবে। তবে পা ভাঙেনি এটা পরিবারের দাবি। অভিযুক্ত লতা বেগম যে কাজটা করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাইকারদী এলাকার জহিরুল ইসলাম ও সাইফা আক্তার দম্পত্তির তিন মাসের শিশু রিজিক। জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন মেয়াদে অসুস্থ থাকায় শিশু রিজিক প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শিশু রিজিকের বাবা জহিরুল ইসলাম ও চাচা কাউছার আহম্মেদ একসঙ্গে থাকেন।

শিশু রিজিক প্রায়ই অসুস্থ এবং হাসপাতালে থাকায় তার মা সাইফা আক্তার পারিবারিক কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারায় চাচি লতা বেগম নানা কটুক্তি করায় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য ও কথা কাটাকাটি চলে আসছিল। 

গত শনিবার বিকেল তিনটার দিকে শিশু রিজিককে নিয়ে মা সাইফা আক্তার নিজ রুমে শুয়ে ছিলেন। তিনি ওয়াশরুমে গেল চাচি লতা রুমে ঢুকে শিশুর পা মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।  শিশুর মা সন্দেহবশত ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে কৌশলে মোবাইলের ভিডিও ধারন চালু করে যান। বিষয়টি নিজের মধ্যে হওয়ায় শিশু রিজিকের চাচা কাউছার আহম্মেদ দাদা আলমাছ মিয়া ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে চাপ দেন।

পাশাপাশি চাচি লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। তারা রিজিকের মা সাইফা আক্তারের মোবাইলে ধারন করা ভিডিওটি ডিলিট করে দেন। এ রআগেই সাইফা বেগম ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

এর আগে, শিশুটির বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ একজন মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছাড়িয়েছে। ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে বলেও দাবি করেছিল শিশুটির পরিবার। পরে এ ঘটনায় অভিযুক্তকে তারা মাফ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। 

ওসির তথ্যমতে, শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয়। তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত ১৪ জুলাই দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনে আটক মার্কিন ভূকম্পনবিদ

যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ার ওপর শুল্ক কমালো যুক্তরাষ্ট্র

১৫ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২, পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে হাসপাতালে

আপডেটের সময় : ০৪:৫০:৪২ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাসের এক নবজাতকের পা ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় চাচি লতা বেগমকে (৩২) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় শিশুটির চাচা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গতকাল রাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির নাম রিজিক। সে সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের চাঁনগাঁও গ্রামের জহিরুল হক জহির ও সাইফা বেগমের সন্তান।

মামলার আসামিরা হলেন- শিশুটির আপন চাচি লতা বেগম, চাচা কাউছার আহম্মেদ ও দাদা আলমাছ মিয়া। তারা সবাই মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর থেকে চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছে।

মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকেন, এক সঙ্গে কাজ করেন। তারা কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না। তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণে বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্র নেবেই। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা সমাজসেবা অফিসার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। 

আমরা আজ বাচ্চাকে জেলা হাসপাতালে পাঠাচ্ছি জানিয়ে ওসি বলেন, তারা এক্সরে করে মতামত দেবে। তবে পা ভাঙেনি এটা পরিবারের দাবি। অভিযুক্ত লতা বেগম যে কাজটা করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাইকারদী এলাকার জহিরুল ইসলাম ও সাইফা আক্তার দম্পত্তির তিন মাসের শিশু রিজিক। জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন মেয়াদে অসুস্থ থাকায় শিশু রিজিক প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শিশু রিজিকের বাবা জহিরুল ইসলাম ও চাচা কাউছার আহম্মেদ একসঙ্গে থাকেন।

শিশু রিজিক প্রায়ই অসুস্থ এবং হাসপাতালে থাকায় তার মা সাইফা আক্তার পারিবারিক কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারায় চাচি লতা বেগম নানা কটুক্তি করায় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য ও কথা কাটাকাটি চলে আসছিল। 

গত শনিবার বিকেল তিনটার দিকে শিশু রিজিককে নিয়ে মা সাইফা আক্তার নিজ রুমে শুয়ে ছিলেন। তিনি ওয়াশরুমে গেল চাচি লতা রুমে ঢুকে শিশুর পা মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।  শিশুর মা সন্দেহবশত ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে কৌশলে মোবাইলের ভিডিও ধারন চালু করে যান। বিষয়টি নিজের মধ্যে হওয়ায় শিশু রিজিকের চাচা কাউছার আহম্মেদ দাদা আলমাছ মিয়া ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে চাপ দেন।

পাশাপাশি চাচি লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। তারা রিজিকের মা সাইফা আক্তারের মোবাইলে ধারন করা ভিডিওটি ডিলিট করে দেন। এ রআগেই সাইফা বেগম ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

এর আগে, শিশুটির বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ একজন মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছাড়িয়েছে। ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে বলেও দাবি করেছিল শিশুটির পরিবার। পরে এ ঘটনায় অভিযুক্তকে তারা মাফ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। 

ওসির তথ্যমতে, শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয়। তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত ১৪ জুলাই দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।

Share this news as a Photo Card