নিউইয়র্ক ০৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশের সঙ্গে বিতর্কিত ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে কিয়ারার সাফ জবাব

  • আপডেটের সময় : ০৭:১৬:২৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তির আগেই তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছে কন্নড় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। পর্দায় নারীদের নেতিবাচক উপস্থাপন, প্রচারণায় নারী চরিত্রের অভাব এবং সাম্প্রতিক ‘তাবাহি’ গানটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা। এমন পরিস্থিতিতে ছবির ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। তার দৃঢ় বিশ্বাস, সব বিতর্ক ছাপিয়ে দর্শক শেষ পর্যন্ত সিনেমার সততা ও ভালো গল্পের সঙ্গেই সংযোগ তৈরি করবেন।

সম্প্রতি ফেমিনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিয়ারা বলেন, ‘টক্সিক’-এ নাদিয়া চরিত্রটি তার অভিনয়জীবনের অন্যতম পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা। পরিচালক গীতু মোহনদাস যখন চরিত্রটির বর্ণনা দেন, তখনই তিনি মুগ্ধ হয়ে যান।

কিয়ারার ভাষায়, ‘গল্প শোনার পর বুঝেছিলাম, এটি অসাধারণভাবে নির্মিত একটি চরিত্র। শক্তি, ভঙ্গুরতা, উন্মাদনা, বিচ্ছিন্নতা, সংবেদনশীলতা-একজন অভিনেত্রী হিসেবে যা যা প্রকাশ করতে চাই, সবই এই চরিত্রে আছে। এমন চরিত্রেরই অপেক্ষায় থাকেন একজন অভিনেতা।’

কিয়ারা জানান, ক্যারিয়ারের এমন এক পর্যায়ে এসে তিনি এই ধরনের কঠিন চরিত্রে অভিনয়ের আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। নাদিয়া চরিত্রে প্রস্তুতির অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন কিয়ারা। তার মতে, অভিনয়ের প্রকৃত কাজ ক্যামেরার সামনে নয়, বরং শুটিং শুরুর অনেক আগেই শুরু হয়ে যায়।

কিয়ারা আদভানি বলেন, ‘আমি চরিত্রটির আবেগ, সম্পর্ক, ভয় এবং প্রেরণা নিয়ে দীর্ঘ সময় ভাবি। এরপর আসে শরীরী ভাষা, কণ্ঠের ধরন, পোশাক, চলাফেরা-সবকিছু। দর্শক শুধু শেষের অভিনয়টি দেখেন, কিন্তু সেই প্রস্তুতির দীর্ঘ প্রক্রিয়া তাঁদের চোখে পড়ে না।’

কিয়ারার মতে, নাদিয়াকে তৈরি করতে গিয়ে তিনি আবারও অভিনয়ের প্রেমে পড়েছেন। তার ভাষায়, ‘প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে আমার কিছুটা থাকে, আবার প্রতিটি চরিত্র থেকেও আমি নিজের জীবনের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসি।’ তবে কিয়ারার এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতার বিপরীতে কয়েক মাস ধরে ছবিটি ঘিরে বিতর্ক থামেনি।

২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত প্রথম টিজারে কবরস্থানে ধারণ করা কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কর্ণাটক রাজ্য মহিলা কমিশন বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডের (সিবিএফসি) কাছে চিঠি পাঠায়। অভিযোগে বলা হয়, ছবির কিছু দৃশ্য নারী ও শিশুদের সামাজিক কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এরপর ১ জুলাই নির্মাতারা ‘লেডিজ অ্যান্ড লেডিজ’ শিরোনামে দ্বিতীয় টিজার প্রকাশ করেন। উদ্দেশ্য ছিল, ছবির নারী চরিত্রগুলোর সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কিন্তু সেটিও নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। সমালোচকদের অভিযোগ, ছবির প্রচারণায় এখনো যশকেই কেন্দ্রে রাখা হয়েছে; নারী চরিত্রগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

কিয়ারা অবশ্য এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তার দাবি, ছবির প্রতিটি নারী চরিত্রই আলাদা বৈশিষ্ট্যে নির্মিত।

কিয়ারা বলেন, ‘নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্তের সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতা। প্রত্যেকে নিজস্ব শক্তি ও স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছেন। একই ছবিতে এত ভিন্নধর্মী নারী চরিত্র দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।’ শুটিংয়ের পরিবেশ নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কিয়ারা। তার ভাষায়, ‘অনেক দিনই সেটে মনে হয়েছে, সবাই মিলে সত্যিই নতুন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করছি। এমন মুহূর্তগুলোই মনে করিয়ে দেয়, কেন সিনেমাকে এত ভালোবাসি।’হিন্দি ও তেলেগু সিনেমার পর এবার কন্নড় চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গেও কথা বলেন কিয়ারা। তার মতে, বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।

কিয়ারা বলেন, ‘তারকাখ্যাতি দর্শককে হলে আনতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মনে থেকে যায় গল্প। মানুষ আসলে সততার সঙ্গেই সংযোগ তৈরি করেন।’ গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’ ছবিতে যশকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যাবে। তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত। কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি কন্নড় ও ইংরেজিতে ধারণ করা হয়েছে। পরে এটি হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম ভাষায়ও মুক্তি পাবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পাকিস্তানে বিক্ষোভস্থলের মাঝে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৭

পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যশের সঙ্গে বিতর্কিত ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে কিয়ারার সাফ জবাব

আপডেটের সময় : ০৭:১৬:২৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

মুক্তির আগেই তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছে কন্নড় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। পর্দায় নারীদের নেতিবাচক উপস্থাপন, প্রচারণায় নারী চরিত্রের অভাব এবং সাম্প্রতিক ‘তাবাহি’ গানটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা। এমন পরিস্থিতিতে ছবির ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। তার দৃঢ় বিশ্বাস, সব বিতর্ক ছাপিয়ে দর্শক শেষ পর্যন্ত সিনেমার সততা ও ভালো গল্পের সঙ্গেই সংযোগ তৈরি করবেন।

সম্প্রতি ফেমিনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিয়ারা বলেন, ‘টক্সিক’-এ নাদিয়া চরিত্রটি তার অভিনয়জীবনের অন্যতম পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা। পরিচালক গীতু মোহনদাস যখন চরিত্রটির বর্ণনা দেন, তখনই তিনি মুগ্ধ হয়ে যান।

কিয়ারার ভাষায়, ‘গল্প শোনার পর বুঝেছিলাম, এটি অসাধারণভাবে নির্মিত একটি চরিত্র। শক্তি, ভঙ্গুরতা, উন্মাদনা, বিচ্ছিন্নতা, সংবেদনশীলতা-একজন অভিনেত্রী হিসেবে যা যা প্রকাশ করতে চাই, সবই এই চরিত্রে আছে। এমন চরিত্রেরই অপেক্ষায় থাকেন একজন অভিনেতা।’

কিয়ারা জানান, ক্যারিয়ারের এমন এক পর্যায়ে এসে তিনি এই ধরনের কঠিন চরিত্রে অভিনয়ের আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। নাদিয়া চরিত্রে প্রস্তুতির অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন কিয়ারা। তার মতে, অভিনয়ের প্রকৃত কাজ ক্যামেরার সামনে নয়, বরং শুটিং শুরুর অনেক আগেই শুরু হয়ে যায়।

কিয়ারা আদভানি বলেন, ‘আমি চরিত্রটির আবেগ, সম্পর্ক, ভয় এবং প্রেরণা নিয়ে দীর্ঘ সময় ভাবি। এরপর আসে শরীরী ভাষা, কণ্ঠের ধরন, পোশাক, চলাফেরা-সবকিছু। দর্শক শুধু শেষের অভিনয়টি দেখেন, কিন্তু সেই প্রস্তুতির দীর্ঘ প্রক্রিয়া তাঁদের চোখে পড়ে না।’

কিয়ারার মতে, নাদিয়াকে তৈরি করতে গিয়ে তিনি আবারও অভিনয়ের প্রেমে পড়েছেন। তার ভাষায়, ‘প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে আমার কিছুটা থাকে, আবার প্রতিটি চরিত্র থেকেও আমি নিজের জীবনের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসি।’ তবে কিয়ারার এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতার বিপরীতে কয়েক মাস ধরে ছবিটি ঘিরে বিতর্ক থামেনি।

২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত প্রথম টিজারে কবরস্থানে ধারণ করা কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কর্ণাটক রাজ্য মহিলা কমিশন বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডের (সিবিএফসি) কাছে চিঠি পাঠায়। অভিযোগে বলা হয়, ছবির কিছু দৃশ্য নারী ও শিশুদের সামাজিক কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এরপর ১ জুলাই নির্মাতারা ‘লেডিজ অ্যান্ড লেডিজ’ শিরোনামে দ্বিতীয় টিজার প্রকাশ করেন। উদ্দেশ্য ছিল, ছবির নারী চরিত্রগুলোর সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কিন্তু সেটিও নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। সমালোচকদের অভিযোগ, ছবির প্রচারণায় এখনো যশকেই কেন্দ্রে রাখা হয়েছে; নারী চরিত্রগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

কিয়ারা অবশ্য এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তার দাবি, ছবির প্রতিটি নারী চরিত্রই আলাদা বৈশিষ্ট্যে নির্মিত।

কিয়ারা বলেন, ‘নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্তের সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতা। প্রত্যেকে নিজস্ব শক্তি ও স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছেন। একই ছবিতে এত ভিন্নধর্মী নারী চরিত্র দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।’ শুটিংয়ের পরিবেশ নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কিয়ারা। তার ভাষায়, ‘অনেক দিনই সেটে মনে হয়েছে, সবাই মিলে সত্যিই নতুন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করছি। এমন মুহূর্তগুলোই মনে করিয়ে দেয়, কেন সিনেমাকে এত ভালোবাসি।’হিন্দি ও তেলেগু সিনেমার পর এবার কন্নড় চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গেও কথা বলেন কিয়ারা। তার মতে, বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।

কিয়ারা বলেন, ‘তারকাখ্যাতি দর্শককে হলে আনতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মনে থেকে যায় গল্প। মানুষ আসলে সততার সঙ্গেই সংযোগ তৈরি করেন।’ গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’ ছবিতে যশকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যাবে। তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত। কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি কন্নড় ও ইংরেজিতে ধারণ করা হয়েছে। পরে এটি হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম ভাষায়ও মুক্তি পাবে।

Share this news as a Photo Card