নিউইয়র্ক ০৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানি কমেছে, আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরছেন বাসিন্দারা

  • আপডেটের সময় : ০৫:৫৬:০৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হওয়া কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিম্নাঞ্চল থেকে পানি অনেকটাই নেমে গেছে। জলাবদ্ধতা কমে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া রোহিঙ্গারা ধীরে ধীরে নিজ নিজ আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মেরামতের কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

সোমবার ও মঙ্গলবার উখিয়া এবং টেকনাফে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি হলেও তা পরিস্থিতির ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এতে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে সরে যায় এবং কয়েকদিন দুর্ভোগে কাটায়।

তবে গত দুই দিনে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল ও বসতঘর থেকে পানি নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ফলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো আবার নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবছার জানান, টানা বৃষ্টিতে তাদের ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় দুই থেকে তিন দিন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। এখন পানি নেমে গেলেও ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

বালুখালি ক্যাম্পের বাসিন্দা নাজিম উল্লাহ বলেন, ভারী বৃষ্টিতে ঘর প্লাবিত হওয়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। বর্তমানে পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরেছেন, তবে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো মেরামত করতে হচ্ছে।

কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, বৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন ঘরে ফিরলেও মেঝে এখনও কাদাময় ও ভেজা। নষ্ট হয়েছে অনেক আসবাবপত্রও।

টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ ও সিনিয়র সহকারী সচিব খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান বলেন, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিজ নিজ আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পদত্যাগ করছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সতর্কতা উপেক্ষা, হরমুজে দুই সুপার ট্যাংকার অচল

১৪ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানি কমেছে, আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরছেন বাসিন্দারা

আপডেটের সময় : ০৫:৫৬:০৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হওয়া কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিম্নাঞ্চল থেকে পানি অনেকটাই নেমে গেছে। জলাবদ্ধতা কমে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া রোহিঙ্গারা ধীরে ধীরে নিজ নিজ আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মেরামতের কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

সোমবার ও মঙ্গলবার উখিয়া এবং টেকনাফে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি হলেও তা পরিস্থিতির ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এতে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে সরে যায় এবং কয়েকদিন দুর্ভোগে কাটায়।

তবে গত দুই দিনে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল ও বসতঘর থেকে পানি নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ফলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো আবার নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবছার জানান, টানা বৃষ্টিতে তাদের ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় দুই থেকে তিন দিন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। এখন পানি নেমে গেলেও ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

বালুখালি ক্যাম্পের বাসিন্দা নাজিম উল্লাহ বলেন, ভারী বৃষ্টিতে ঘর প্লাবিত হওয়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। বর্তমানে পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরেছেন, তবে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো মেরামত করতে হচ্ছে।

কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, বৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন ঘরে ফিরলেও মেঝে এখনও কাদাময় ও ভেজা। নষ্ট হয়েছে অনেক আসবাবপত্রও।

টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ ও সিনিয়র সহকারী সচিব খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান বলেন, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিজ নিজ আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card