নিউইয়র্ক ০৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ মাসের শিশুর পা ভাঙার ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো, জানাল পুলিশ ও পরিবার

  • আপডেটের সময় : ০৪:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে শিশুর পায়ে মোচড় দেওয়ার একটি দৃশ্যকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে অতিরঞ্জিতভাবে ভাইরাল করা হয়েছে। পুলিশ সরাসরি গিয়ে তদন্ত করে দেখেছে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি।

গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকার জহিরুল মিয়া ও সায়মা আক্তার দম্পতির তিন মাস বয়সী সন্তান রিজিক জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকায় বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। ওই সময় সায়মা আক্তারের জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) লতা বেগমকে বাড়ির সব কাজকর্ম একাই সামলাতে হয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গত ১১ জুন লতা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে শিশু রিজিকের পায়ে মোচড় দেন, যা সায়মা আক্তারের মুঠোফোনে ধারণ করা হয়।

পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পাদনা করে শিশুটির পা ভেঙে ফেলা হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মাধবদী থানা-পুলিশ সরাসরি ওই বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করে। সেখানে গিয়ে পুলিশ শিশুটির পা ভাঙা বা কোনো শারীরিক ক্ষতির আলামত পায়নি।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সায়মা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এআই দিয়ে এডিট করা হয়েছে। তাদের সন্তানের পা ভাঙেনি এবং পায়ে কোনো ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টারও নেই। তারা জানান, পারিবারিক কাজের চাপ নিয়ে মনোমালিন্য থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে লতা বেগমের বাবা তাদের বাড়িতে এসে মেয়েকে বকাঝকা করেন এবং পারিবারিকভাবেই বিষয়টির মীমাংসা হয়ে যায়। তাই এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তাদের কোনো আইনি অভিযোগ নেই।

সার্বিক বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ওই পরিবারের সদস্যরা একান্নবর্তীভাবে বসবাস ও ব্যবসা করেন। কাজের চাপ নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে শিশুটির পায়ে মোচড় দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই দৃশ্যটিই এআই দিয়ে সম্পাদনা করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে দেখে এসেছে এবং সে সুস্থ আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনে আটক মার্কিন ভূকম্পনবিদ

যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ার ওপর শুল্ক কমালো যুক্তরাষ্ট্র

১৫ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৩ মাসের শিশুর পা ভাঙার ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো, জানাল পুলিশ ও পরিবার

আপডেটের সময় : ০৪:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে শিশুর পায়ে মোচড় দেওয়ার একটি দৃশ্যকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে অতিরঞ্জিতভাবে ভাইরাল করা হয়েছে। পুলিশ সরাসরি গিয়ে তদন্ত করে দেখেছে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি।

গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকার জহিরুল মিয়া ও সায়মা আক্তার দম্পতির তিন মাস বয়সী সন্তান রিজিক জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকায় বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। ওই সময় সায়মা আক্তারের জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) লতা বেগমকে বাড়ির সব কাজকর্ম একাই সামলাতে হয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গত ১১ জুন লতা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে শিশু রিজিকের পায়ে মোচড় দেন, যা সায়মা আক্তারের মুঠোফোনে ধারণ করা হয়।

পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পাদনা করে শিশুটির পা ভেঙে ফেলা হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মাধবদী থানা-পুলিশ সরাসরি ওই বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করে। সেখানে গিয়ে পুলিশ শিশুটির পা ভাঙা বা কোনো শারীরিক ক্ষতির আলামত পায়নি।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সায়মা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এআই দিয়ে এডিট করা হয়েছে। তাদের সন্তানের পা ভাঙেনি এবং পায়ে কোনো ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টারও নেই। তারা জানান, পারিবারিক কাজের চাপ নিয়ে মনোমালিন্য থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে লতা বেগমের বাবা তাদের বাড়িতে এসে মেয়েকে বকাঝকা করেন এবং পারিবারিকভাবেই বিষয়টির মীমাংসা হয়ে যায়। তাই এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তাদের কোনো আইনি অভিযোগ নেই।

সার্বিক বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ওই পরিবারের সদস্যরা একান্নবর্তীভাবে বসবাস ও ব্যবসা করেন। কাজের চাপ নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে শিশুটির পায়ে মোচড় দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই দৃশ্যটিই এআই দিয়ে সম্পাদনা করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে দেখে এসেছে এবং সে সুস্থ আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Share this news as a Photo Card