নিউইয়র্ক ০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় ঘোড়া জবাই করে মাংস হোটেল-রেস্তোরাঁয় সরবরাহের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

  • আপডেটের সময় : ০৭:২৫:৩৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সাভারের আশুলিয়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিরিয়ানির দোকানে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর এলাকার ময়লার ভাগাড় সংলগ্ন একটি নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের বেলায় ঘোড়া জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করে আসছিল। পরে সেই মাংস রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর, কাশিমপুরসহ সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন হোটেল, সাধারণ খাবারের দোকান এবং বিরিয়ানির ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার রাতে ঘোড়া জবাইয়ের সময় সংবাদকর্মী ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও ঘটনাস্থল থেকে ঘোড়া জবাইয়ের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ ও পরিত্যক্ত ঘোড়া এনে সেখানে জবাই করা হতো। ভোর হওয়ার আগেই মাংস প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মূল হোতা আশুলিয়ার রংপুর মার্কেট এলাকার আলফাজ। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে অসুস্থ বা পরিত্যক্ত ঘোড়া সংগ্রহ করে এ ব্যবসা পরিচালনা করতেন। নির্জন পরিবেশ এবং অস্ত্রধারীদের ভয় থাকায় স্থানীয়রা দীর্ঘদিন প্রতিবাদ করতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া বাড়িটির সামনে ও পেছনে পৃথক দুটি প্রবেশপথ থাকায় অভিযুক্তরা সহজেই যাতায়াত ও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত।

স্থানীয়রা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি জবাইকারী চক্র, মাংস পরিবহনকারী, সরবরাহকারী এবং যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসব মাংস সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত মাংসের উৎস যাচাইয়ে নিয়মিত অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি জোরদারের আহ্বান জানান তারা।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রকেটের সফল পরীক্ষা চালাল স্পেসএক্স

একই দিনে জেলেনস্কি ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

আশুলিয়ায় ঘোড়া জবাই করে মাংস হোটেল-রেস্তোরাঁয় সরবরাহের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

আপডেটের সময় : ০৭:২৫:৩৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

সাভারের আশুলিয়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিরিয়ানির দোকানে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর এলাকার ময়লার ভাগাড় সংলগ্ন একটি নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের বেলায় ঘোড়া জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করে আসছিল। পরে সেই মাংস রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর, কাশিমপুরসহ সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন হোটেল, সাধারণ খাবারের দোকান এবং বিরিয়ানির ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার রাতে ঘোড়া জবাইয়ের সময় সংবাদকর্মী ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও ঘটনাস্থল থেকে ঘোড়া জবাইয়ের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ ও পরিত্যক্ত ঘোড়া এনে সেখানে জবাই করা হতো। ভোর হওয়ার আগেই মাংস প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মূল হোতা আশুলিয়ার রংপুর মার্কেট এলাকার আলফাজ। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে অসুস্থ বা পরিত্যক্ত ঘোড়া সংগ্রহ করে এ ব্যবসা পরিচালনা করতেন। নির্জন পরিবেশ এবং অস্ত্রধারীদের ভয় থাকায় স্থানীয়রা দীর্ঘদিন প্রতিবাদ করতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া বাড়িটির সামনে ও পেছনে পৃথক দুটি প্রবেশপথ থাকায় অভিযুক্তরা সহজেই যাতায়াত ও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত।

স্থানীয়রা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি জবাইকারী চক্র, মাংস পরিবহনকারী, সরবরাহকারী এবং যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসব মাংস সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত মাংসের উৎস যাচাইয়ে নিয়মিত অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি জোরদারের আহ্বান জানান তারা।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card