নিউইয়র্ক ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩৪:৫৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

গত দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে লালমনিরহাট জেলার তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ১৪ মিটার রেকর্ড করা হয়। বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। এর সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে টানা বৃষ্টিপাত যোগ হওয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসের শেষ দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বুধবার থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ফলে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। উপজেলার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলা এখন মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।

পানির চাপ বাড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় বর্ষা এলেই জরুরি মেরামতের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। অথচ আগেভাগে টেকসই সংস্কার করা হলে বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।

হলদিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সহিদার রহমান বলেন, বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। পানির চাপ দেখে বড় বন্যার আশঙ্কা করছি। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষের রাত কাটে আতঙ্কে।

ঘোড়ামারা চরের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। আজ পানির বৃদ্ধি অনেক বেশি। অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে, মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে। গবাদিপশু রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও বাড়ে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জুমার নামাজের পর আল-আকসার ইমামকে আটক করল ইসরায়েল

মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন, প্রতিশোধের স্লোগানে উত্তাল ইরান

১১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা

আপডেটের সময় : ০৭:৩৪:৫৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

গত দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে লালমনিরহাট জেলার তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ১৪ মিটার রেকর্ড করা হয়। বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। এর সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে টানা বৃষ্টিপাত যোগ হওয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসের শেষ দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বুধবার থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ফলে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। উপজেলার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলা এখন মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।

পানির চাপ বাড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় বর্ষা এলেই জরুরি মেরামতের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। অথচ আগেভাগে টেকসই সংস্কার করা হলে বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।

হলদিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সহিদার রহমান বলেন, বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। পানির চাপ দেখে বড় বন্যার আশঙ্কা করছি। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষের রাত কাটে আতঙ্কে।

ঘোড়ামারা চরের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। আজ পানির বৃদ্ধি অনেক বেশি। অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে, মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে। গবাদিপশু রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও বাড়ে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card