নিউইয়র্ক ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি প্লাবিত, সড়কে যান চলাচল বন্ধ

  • আপডেটের সময় : ০৯:৫২:৩৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়িতে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল নেমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টির প্রভাবে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশ এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার সেতুসহ সড়কের একাধিক অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকার সড়কও প্লাবিত হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার বিকেল থেকে দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও চলাচল করতে পারছেন না।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা হয়েছে। মেরুং রাজাবাড়িসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকা এবং গুইমারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বারবার আহ্বান জানাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জুমার নামাজের পর আল-আকসার ইমামকে আটক করল ইসরায়েল

মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন, প্রতিশোধের স্লোগানে উত্তাল ইরান

১১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি প্লাবিত, সড়কে যান চলাচল বন্ধ

আপডেটের সময় : ০৯:৫২:৩৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

খাগড়াছড়িতে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল নেমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টির প্রভাবে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশ এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার সেতুসহ সড়কের একাধিক অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকার সড়কও প্লাবিত হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার বিকেল থেকে দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও চলাচল করতে পারছেন না।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা হয়েছে। মেরুং রাজাবাড়িসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকা এবং গুইমারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বারবার আহ্বান জানাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।

Share this news as a Photo Card