নিউইয়র্ক ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ০৪:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) লোহাগাড়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক হিসাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রায় সাত লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার পরিবারকে চাল, ৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনা খাবার এবং ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য টিন সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত চাষাবাদে ফিরতে পারেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়ন শেষে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।

বন্যার কারণ সম্পর্কে আমির খসরু বলেন, কোথাও রেললাইন, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত—সব বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই দিন সাতকানিয়া উপজেলায় তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির উদ্যোগে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের সময় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও ব্যবসায়ী সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতি যেভাবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত এবং অন্যদেরও মানবিক উদ্যোগে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তামাকুমন্ডি লেইনের ব্যবসায়ীরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো সামাজিক ও মানবিক সংকটে তাদের এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

সিআইএ-মোসাদের সঙ্গে এপস্টাইনের যোগাযোগ ছিল: ভ্যান্স

১৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০৪:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) লোহাগাড়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক হিসাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রায় সাত লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার পরিবারকে চাল, ৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনা খাবার এবং ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য টিন সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত চাষাবাদে ফিরতে পারেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়ন শেষে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।

বন্যার কারণ সম্পর্কে আমির খসরু বলেন, কোথাও রেললাইন, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত—সব বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই দিন সাতকানিয়া উপজেলায় তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির উদ্যোগে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের সময় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও ব্যবসায়ী সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতি যেভাবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত এবং অন্যদেরও মানবিক উদ্যোগে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তামাকুমন্ডি লেইনের ব্যবসায়ীরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো সামাজিক ও মানবিক সংকটে তাদের এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

Share this news as a Photo Card