নিউইয়র্ক ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে পেপাল-পেওনিয়ারের পথ আরও সহজ করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • আপডেটের সময় : ০৭:৫৭:৩৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে নতুন ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে পেপাল, পেওনিয়ার, স্ট্রাইপসহ আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হলো।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশে অর্থ পাঠানো (আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স) এবং আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা পরিচালনার জন্য ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার’ (সিডিপিএসপি)-এর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারবে।

নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জন্য ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট’ (ডিভিএ) বা ডিজিটাল ওয়ালেট খুলতে সহায়তা করতে পারবে। তবে এসব অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি ‘মাস্টার ডিভিএ’ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। প্রতিটি লেনদেন রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ এবং সমান্তরাল হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা সমন্বয় বা ফেরত দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ভ্রমণ, চিকিৎসা, সরকারি বা দাপ্তরিক সফরের বৈদেশিক ব্যয়, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সদস্যপদ ও সাবস্ক্রিপশন ফি, ই-ভিসা ফি, বিদেশে হোটেল বুকিং এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবার (আইটিইএস) বিল পরিশোধে এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন কেনাকাটাও করা যাবে।

এছাড়া এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। ইআরকিউ হিসাবধারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক ব্যয়ের জন্য ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন।

নতুন ব্যবস্থায় ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার রপ্তানিকারক, আইটি সেবা প্রদানকারী এবং ই-কমার্স উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় করা অর্থ আরও সহজে দেশে আনতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে আগত বিদেশি পর্যটক ও অনাবাসীরাও দেশের বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

তবে এ সেবা চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে কারিগরি সক্ষমতা, নিরাপত্তা কাঠামো এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতির তথ্যসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার প্রতিরোধ (এএমএল) এবং গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে নিয়মিত লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে পেপাল, পেওনিয়ার ও স্ট্রাইপের মতো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দেশীয় ব্যাংকের সহযোগিতা সহজ হবে। এতে দেশের ফ্রিল্যান্সার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ ও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বের সবচেয়ে উচুঁ টাওয়ার বানাচ্ছে সৌদি আরব

বাক্সের ভেতর মিলল ৫ নবজাতকের দেহাবশেষ

৩০ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বাংলাদেশে পেপাল-পেওনিয়ারের পথ আরও সহজ করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেটের সময় : ০৭:৫৭:৩৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে নতুন ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে পেপাল, পেওনিয়ার, স্ট্রাইপসহ আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হলো।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশে অর্থ পাঠানো (আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স) এবং আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা পরিচালনার জন্য ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার’ (সিডিপিএসপি)-এর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারবে।

নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জন্য ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট’ (ডিভিএ) বা ডিজিটাল ওয়ালেট খুলতে সহায়তা করতে পারবে। তবে এসব অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি ‘মাস্টার ডিভিএ’ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। প্রতিটি লেনদেন রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ এবং সমান্তরাল হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা সমন্বয় বা ফেরত দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ভ্রমণ, চিকিৎসা, সরকারি বা দাপ্তরিক সফরের বৈদেশিক ব্যয়, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সদস্যপদ ও সাবস্ক্রিপশন ফি, ই-ভিসা ফি, বিদেশে হোটেল বুকিং এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবার (আইটিইএস) বিল পরিশোধে এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন কেনাকাটাও করা যাবে।

এছাড়া এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। ইআরকিউ হিসাবধারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক ব্যয়ের জন্য ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন।

নতুন ব্যবস্থায় ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার রপ্তানিকারক, আইটি সেবা প্রদানকারী এবং ই-কমার্স উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় করা অর্থ আরও সহজে দেশে আনতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে আগত বিদেশি পর্যটক ও অনাবাসীরাও দেশের বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

তবে এ সেবা চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে কারিগরি সক্ষমতা, নিরাপত্তা কাঠামো এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতির তথ্যসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার প্রতিরোধ (এএমএল) এবং গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে নিয়মিত লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে পেপাল, পেওনিয়ার ও স্ট্রাইপের মতো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দেশীয় ব্যাংকের সহযোগিতা সহজ হবে। এতে দেশের ফ্রিল্যান্সার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ ও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Share this news as a Photo Card