নিউইয়র্ক ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লৌহজংয়ে নির্মাণের দেড় মাসেই বাঁধে ধস, আতঙ্কে নির্ঘুম নদীপারের মানুষ

  • আপডেটের সময় : ০৫:৫৫:৩৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধে নির্মাণের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের সিসি ব্লকের একটি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নদীভাঙনের শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে তীররক্ষা বাঁধে হঠাৎ ধস নামে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই বাঁধের সুরক্ষায় স্থাপিত সিসি ব্লকগুলো পদ্মা নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। এতে বাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এ এলাকার মানুষ নতুন বাঁধ নির্মাণে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন। তবে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ধস দেখা দেওয়ায় সেই স্বস্তি আবারও আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ খান বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। নতুন বাঁধ নির্মাণের পর স্থায়ীভাবে বসবাসের আশা জাগলেও এখন আবার ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রিতা রাণী দে বলেন, বাঁধ নির্মাণের পর নিরাপদে থাকার আশা করেছিলেন, কিন্তু এখন আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে মনির চন্দ্র দে বলেন, অতীতে নদীভাঙনে তাদের অনেক জমিজমা বিলীন হয়েছে। নতুন করে বসতি গড়ে তুললেও আবারও ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাগর জানান, ধসের খবর পেয়ে রাতে তড়িঘড়ি করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হয়েছে।

নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধে ধস নামায় কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, বর্ষাকালে নদীর স্রোত আরও বৃদ্ধি পেলে গাঁওদিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত স্থায়ী মেরামতের পাশাপাশি বাঁধ নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। খবর পাওয়ার পর থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পদত্যাগ করছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সতর্কতা উপেক্ষা, হরমুজে দুই সুপার ট্যাংকার অচল

১৪ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

লৌহজংয়ে নির্মাণের দেড় মাসেই বাঁধে ধস, আতঙ্কে নির্ঘুম নদীপারের মানুষ

আপডেটের সময় : ০৫:৫৫:৩৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধে নির্মাণের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের সিসি ব্লকের একটি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নদীভাঙনের শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে তীররক্ষা বাঁধে হঠাৎ ধস নামে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই বাঁধের সুরক্ষায় স্থাপিত সিসি ব্লকগুলো পদ্মা নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। এতে বাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এ এলাকার মানুষ নতুন বাঁধ নির্মাণে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন। তবে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ধস দেখা দেওয়ায় সেই স্বস্তি আবারও আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ খান বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। নতুন বাঁধ নির্মাণের পর স্থায়ীভাবে বসবাসের আশা জাগলেও এখন আবার ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রিতা রাণী দে বলেন, বাঁধ নির্মাণের পর নিরাপদে থাকার আশা করেছিলেন, কিন্তু এখন আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে মনির চন্দ্র দে বলেন, অতীতে নদীভাঙনে তাদের অনেক জমিজমা বিলীন হয়েছে। নতুন করে বসতি গড়ে তুললেও আবারও ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাগর জানান, ধসের খবর পেয়ে রাতে তড়িঘড়ি করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হয়েছে।

নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধে ধস নামায় কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, বর্ষাকালে নদীর স্রোত আরও বৃদ্ধি পেলে গাঁওদিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত স্থায়ী মেরামতের পাশাপাশি বাঁধ নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। খবর পাওয়ার পর থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

Share this news as a Photo Card