নিউইয়র্ক ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিশংসনের পরই গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

  • আপডেটের সময় : ১২:৩১:২৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে প্যারাগুয়ের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসন করার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই গৃহবন্দি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি একটি বিতর্কিত ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এই ঘটনায় দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, পেনিয়ার প্রশাসন উয়েনো ব্যাংককে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার পর ব্যাংকটি অতি দ্রুত প্রসার লাভ করে। কিন্তু সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্থগিত করায় এর প্রায় ২৯ লাখ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়। এটি দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ।

এর ফলে গ্রাহকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মতো মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্যও নিজেদের টাকা তুলতে পারছেন না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
 
গত সপ্তাহে দ্রুতগতির এই অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পেনিয়ার গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এর মধ্যেই তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন নেতা হিসেবে শপথ নেন।

পেনিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়।

বিশ্লেষকদের মতে, উয়েনো ব্যাংকে রাষ্ট্রীয় ও পেনশন তহবিল থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৮৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পেনিয়ারও ব্যাংকটির মূল সংস্থায় প্রায় ১০ লাখ ডলারের শেয়ার ছিল, যা তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিক্রি করেন। এই কেলেঙ্কারির কারণে জনরোষ চরমে পৌঁছালে এবং খুচরা বিক্রি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেলে পেনিয়া তার দলের সমর্থনও হারান। বিরোধী সিনেটররা এটিকে প্যারাগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম দুর্নীতি ও জালিয়াতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এদিকে আর্জেন্টিনার পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও পেনিয়া নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে সাধারণ আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্বিতীয় ওবামা’ জন ওসফ

০৭ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

অভিশংসনের পরই গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

আপডেটের সময় : ১২:৩১:২৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে প্যারাগুয়ের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসন করার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই গৃহবন্দি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি একটি বিতর্কিত ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এই ঘটনায় দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, পেনিয়ার প্রশাসন উয়েনো ব্যাংককে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার পর ব্যাংকটি অতি দ্রুত প্রসার লাভ করে। কিন্তু সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্থগিত করায় এর প্রায় ২৯ লাখ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়। এটি দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ।

এর ফলে গ্রাহকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মতো মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্যও নিজেদের টাকা তুলতে পারছেন না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
 
গত সপ্তাহে দ্রুতগতির এই অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পেনিয়ার গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এর মধ্যেই তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন নেতা হিসেবে শপথ নেন।

পেনিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়।

বিশ্লেষকদের মতে, উয়েনো ব্যাংকে রাষ্ট্রীয় ও পেনশন তহবিল থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৮৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পেনিয়ারও ব্যাংকটির মূল সংস্থায় প্রায় ১০ লাখ ডলারের শেয়ার ছিল, যা তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিক্রি করেন। এই কেলেঙ্কারির কারণে জনরোষ চরমে পৌঁছালে এবং খুচরা বিক্রি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেলে পেনিয়া তার দলের সমর্থনও হারান। বিরোধী সিনেটররা এটিকে প্যারাগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম দুর্নীতি ও জালিয়াতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এদিকে আর্জেন্টিনার পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও পেনিয়া নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে সাধারণ আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card