নিউইয়র্ক ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমার চেয়েও বড় হবে’, ছেলেকে নিয়ে রোনালদোর বড় আশা

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বাবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ১৬ বছর বয়সের শারীরিক গড়নকে ছাড়িয়ে গেছেন ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী রোনালদো মনে করেন, সময়ের সঙ্গে জুনিয়র তার চেয়েও বড় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তবে তার মতে, সাফল্যের জন্য শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাফল্যের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

আল-নাসরের একাডেমিতে বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়রের অনুশীলন দেখার সময় তার নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

ছেলের ব্যক্তিত্ব নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘সে ভালো ছেলে। সৎ, ভালো ছেলে।’ এরপর পরিবারের অন্য সন্তানদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘অন্যরা একটু বেশি কঠিন। যারা আমার বাড়িতে আছে, ছোটগুলো। এই ছেলেকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। অন্যরা হলো…’

এরপর নিজের ১৬ বছর বয়সের সঙ্গে ছেলের শারীরিক গড়নের তুলনা করেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তার বয়সী ছিলাম, তখন সে আমার চেয়ে একটু বড় এবং শক্তিশালী। আমি ছোট ছিলাম। আমার মনে হয়, সে আমার চেয়েও বড় হবে।’

তবে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রোনালদোর কাছে শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য একটি বিষয়। তিনি বলেন, ‘ক্ষুধাটাই সবচেয়ে কঠিন।’

রোনালদো জুনিয়র এরই মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি বড় ক্লাবের একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। জুভেন্টাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে সময় কাটানোর পর বাবার সৌদি আরবে যাওয়ার পর আল-নাসরের যুব দলে যোগ দেন তিনি।

২০২৫ সালে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৫ দলেও খেলেছেন রোনালদো জুনিয়র। ২০২৬ সালে জায়গা করে নেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলে।

ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুতেই বিশ্বমানের কোচিং ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। তবে এর সঙ্গে তার ওপর প্রত্যাশার চাপও কম নয়। কারণ, তার বাবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালিতে লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

রোনালদোর নিজের সাফল্যের পেছনেও শুধু প্রতিভা কাজ করেনি। কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার মানসিকতা তাকে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে রেখেছে। ছেলের ক্ষেত্রেও সেই মানসিকতাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।

রোনালদোর মতে, শারীরিক শক্তি বাড়ানো এবং ফুটবল দক্ষতা উন্নত করা সম্ভব। কিন্তু সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ক্ষুধা তৈরি করা অনেক বেশি কঠিন।

রোনালদো জুনিয়রের সামনে তাই বড় চ্যালেঞ্জ। বাবার মতো একই সাফল্য অর্জন করার চাপের পাশাপাশি তাকে নিজের আলাদা পরিচয়ও তৈরি করতে হবে। আর সেই পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা।

রোনালদোর ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল স্পোর্টিং লিসবনের তরুণ প্রতিভা হিসেবে। সেখান থেকে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য মানসিকতার জোরে তিনি পরিণত হয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায়। এখন রোনালদো জুনিয়র বাবার সেই মানসিকতা কতটা নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারেন, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে তাঁর ভবিষ্যৎ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘আমার চেয়েও বড় হবে’, ছেলেকে নিয়ে রোনালদোর বড় আশা

আপডেটের সময় : ০৫:০৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

বাবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ১৬ বছর বয়সের শারীরিক গড়নকে ছাড়িয়ে গেছেন ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী রোনালদো মনে করেন, সময়ের সঙ্গে জুনিয়র তার চেয়েও বড় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তবে তার মতে, সাফল্যের জন্য শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাফল্যের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

আল-নাসরের একাডেমিতে বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়রের অনুশীলন দেখার সময় তার নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

ছেলের ব্যক্তিত্ব নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘সে ভালো ছেলে। সৎ, ভালো ছেলে।’ এরপর পরিবারের অন্য সন্তানদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘অন্যরা একটু বেশি কঠিন। যারা আমার বাড়িতে আছে, ছোটগুলো। এই ছেলেকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। অন্যরা হলো…’

এরপর নিজের ১৬ বছর বয়সের সঙ্গে ছেলের শারীরিক গড়নের তুলনা করেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তার বয়সী ছিলাম, তখন সে আমার চেয়ে একটু বড় এবং শক্তিশালী। আমি ছোট ছিলাম। আমার মনে হয়, সে আমার চেয়েও বড় হবে।’

তবে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রোনালদোর কাছে শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য একটি বিষয়। তিনি বলেন, ‘ক্ষুধাটাই সবচেয়ে কঠিন।’

রোনালদো জুনিয়র এরই মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি বড় ক্লাবের একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। জুভেন্টাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে সময় কাটানোর পর বাবার সৌদি আরবে যাওয়ার পর আল-নাসরের যুব দলে যোগ দেন তিনি।

২০২৫ সালে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৫ দলেও খেলেছেন রোনালদো জুনিয়র। ২০২৬ সালে জায়গা করে নেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলে।

ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুতেই বিশ্বমানের কোচিং ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। তবে এর সঙ্গে তার ওপর প্রত্যাশার চাপও কম নয়। কারণ, তার বাবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালিতে লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

রোনালদোর নিজের সাফল্যের পেছনেও শুধু প্রতিভা কাজ করেনি। কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার মানসিকতা তাকে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে রেখেছে। ছেলের ক্ষেত্রেও সেই মানসিকতাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।

রোনালদোর মতে, শারীরিক শক্তি বাড়ানো এবং ফুটবল দক্ষতা উন্নত করা সম্ভব। কিন্তু সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ক্ষুধা তৈরি করা অনেক বেশি কঠিন।

রোনালদো জুনিয়রের সামনে তাই বড় চ্যালেঞ্জ। বাবার মতো একই সাফল্য অর্জন করার চাপের পাশাপাশি তাকে নিজের আলাদা পরিচয়ও তৈরি করতে হবে। আর সেই পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা।

রোনালদোর ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল স্পোর্টিং লিসবনের তরুণ প্রতিভা হিসেবে। সেখান থেকে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য মানসিকতার জোরে তিনি পরিণত হয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায়। এখন রোনালদো জুনিয়র বাবার সেই মানসিকতা কতটা নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারেন, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে তাঁর ভবিষ্যৎ।

Share this news as a Photo Card