নিউইয়র্ক ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না: সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ

  • আপডেটের সময় : ০৯:২০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর কাফরুল এলাকায় তরিকুল ইসলাম রুবেল নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে কলিমউল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা জীবনের কোথাও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। এখনো নেই। আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না।’

তিনি আরও বলেন, উপাচার্যের দায়িত্বে থাকার সময় জুলাই আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধেও তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বলে আদালতকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলাম। সেদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার নাম ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন রেজা এর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কলিমউল্লাহর কোনো রাজনৈতিক পদ বা পরিচয় নেই। তিনি একজন অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন, এ কারণেই তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আবেদনের পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি বলেন, কলিমউল্লাহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ কারণে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তিনি।

দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত কলিমউল্লাহকে তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। তার আইনজীবী মহসিন রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কোটা সংস্কার ও তৎকালীন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পর্যায়ের আসামিরা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কাফরুল থানার এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তরিকুল ইসলাম রুবেলসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রুবেল।

এ ঘটনায় নিহত রুবেলের স্বজন আতিউর রহমান কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেদিন তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৮৬

ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু করল বার্সেলোনা

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না: সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ

আপডেটের সময় : ০৯:২০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর কাফরুল এলাকায় তরিকুল ইসলাম রুবেল নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে কলিমউল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা জীবনের কোথাও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। এখনো নেই। আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না।’

তিনি আরও বলেন, উপাচার্যের দায়িত্বে থাকার সময় জুলাই আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধেও তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বলে আদালতকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলাম। সেদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার নাম ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন রেজা এর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কলিমউল্লাহর কোনো রাজনৈতিক পদ বা পরিচয় নেই। তিনি একজন অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন, এ কারণেই তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আবেদনের পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি বলেন, কলিমউল্লাহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ কারণে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তিনি।

দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত কলিমউল্লাহকে তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। তার আইনজীবী মহসিন রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কোটা সংস্কার ও তৎকালীন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পর্যায়ের আসামিরা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কাফরুল থানার এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তরিকুল ইসলাম রুবেলসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রুবেল।

এ ঘটনায় নিহত রুবেলের স্বজন আতিউর রহমান কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেদিন তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

Share this news as a Photo Card