নিউইয়র্ক ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে অনাস্থা, প্রথম দেশ হিসেবে সমর্থন তুলে নিল ওয়েলস

  • আপডেটের সময় : ০৯:১৪:০৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
  • ১২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পথে নতুন ধাক্কা দিয়েছে ওয়েলস। প্রকাশ্যে তার প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে দেশটি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছ থেকে সরে দাঁড়ানো প্রথম দেশ হিসেবে নাম লেখাল ওয়েলস।

সম্প্রতি ফিফার বিশ্বকাপসহ বড় প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। এরপরই তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লিউ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনোর প্রার্থিতায় তাদের সমর্থন আর থাকছে না।

সংস্থাটি বলেছে, ‘ভালো শাসনব্যবস্থা, প্রক্রিয়া, নেতৃত্ব, মূল্যবোধ, অংশীজনদের ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা আমাদের এমন অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে থাকার জন্য মি. ইনফান্তিনোর ওপর এফএডব্লিউর আর আস্থা নেই।’

ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ‘ফুটবলের সর্বোচ্চ স্বার্থকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারছে না। ফুটবলের সর্বোত্তম স্বার্থকে সবার আগে রাখতে ব্যর্থ হওয়া এমন একটি ব্যর্থতা, যা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ছিল। সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রস্তাবটি সামনে আসার পর থেকেই ইউরোপসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র আপত্তি তৈরি হয়।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। একই সময়ে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা কনকাকাফও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে।

এরপর ওয়েলসের এই সিদ্ধান্ত ইনফান্তিনোর জন্য নতুন চাপ তৈরি করল। কারণ, এতদিন পর্যন্ত বিরোধিতা মূলত বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এলেও এবার সরাসরি একটি সদস্যদেশ তার পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতাকে সমর্থন না করার ঘোষণা দিল।

ফিফা সভাপতির নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৭ সালে। সেখানে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব ধরে রাখতে লড়াইয়ে নামতে চান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক তার পুনর্নির্বাচনের পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে অনাস্থা, প্রথম দেশ হিসেবে সমর্থন তুলে নিল ওয়েলস

আপডেটের সময় : ০৯:১৪:০৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পথে নতুন ধাক্কা দিয়েছে ওয়েলস। প্রকাশ্যে তার প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে দেশটি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছ থেকে সরে দাঁড়ানো প্রথম দেশ হিসেবে নাম লেখাল ওয়েলস।

সম্প্রতি ফিফার বিশ্বকাপসহ বড় প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। এরপরই তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লিউ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনোর প্রার্থিতায় তাদের সমর্থন আর থাকছে না।

সংস্থাটি বলেছে, ‘ভালো শাসনব্যবস্থা, প্রক্রিয়া, নেতৃত্ব, মূল্যবোধ, অংশীজনদের ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা আমাদের এমন অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে থাকার জন্য মি. ইনফান্তিনোর ওপর এফএডব্লিউর আর আস্থা নেই।’

ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ‘ফুটবলের সর্বোচ্চ স্বার্থকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারছে না। ফুটবলের সর্বোত্তম স্বার্থকে সবার আগে রাখতে ব্যর্থ হওয়া এমন একটি ব্যর্থতা, যা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ছিল। সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রস্তাবটি সামনে আসার পর থেকেই ইউরোপসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র আপত্তি তৈরি হয়।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। একই সময়ে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা কনকাকাফও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে।

এরপর ওয়েলসের এই সিদ্ধান্ত ইনফান্তিনোর জন্য নতুন চাপ তৈরি করল। কারণ, এতদিন পর্যন্ত বিরোধিতা মূলত বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এলেও এবার সরাসরি একটি সদস্যদেশ তার পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতাকে সমর্থন না করার ঘোষণা দিল।

ফিফা সভাপতির নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৭ সালে। সেখানে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব ধরে রাখতে লড়াইয়ে নামতে চান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক তার পুনর্নির্বাচনের পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

Share this news as a Photo Card