নিউইয়র্ক ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনফান্তিনোর ‘পক্ষে’ ভোট না দিলে বাংলাদেশ হারাবে ৩৭০ কোটি টাকা

  • আপডেটের সময় : ০৮:১১:৪৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাবে রাজি না হলে ২১১ সদস্য দেশকে ৩০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা বন্ধের সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মূলত নিজের এই বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবার সরাসরি সদস্য দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ালেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৫৩ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ভোটাভুটিতে অনুমোদন পেলেই ফিফা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করবে। এর অধীনে বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালিত হবে। প্রতিষ্ঠানটিতে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ থাকবে।

ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ২০২৭-২০৩১ চক্রে ফিফা ফরওয়ার্ড কর্মসূচির অনুদান প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোকে এককালীন ২০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অনুদান দেওয়া হবে।

তবে প্রস্তাবটি পাস না হলে সদস্য দেশগুলো মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার পাবে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য ৩০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ থেকে বঞ্চিত হবে তারা। ভবিষ্যতে এই অনুদান আরও বাড়িয়ে ২০৩৫-২০৩৮ চক্রে ২৪ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের মতো অনেক ছোট ফুটবল ফেডারেশন জাতীয় দল পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, একাডেমি ও তৃণমূল ফুটবল পরিচালনায় ফিফার এই অর্থের ওপর নির্ভরশীল। ইনফান্তিনো আগেই দাবি করেছিলেন, ‘ফিফা না থাকলে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে ফুটবল টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো না।’

তবে এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। উয়েফা অভিযোগ করেছে, ফিফা ফুটবলের ‘আত্মা বিক্রি’ করতে চাইছে। ইউরোপের ফুটবল কর্তারা বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকছেন এবং বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানিয়েছে, তারা আগে থেকে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানত না। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘প্রস্তাবের প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা ও নীতিগত দিক নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর আমরা আমাদের অবস্থান জানাব।’

এদিকে উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তবে আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক সদস্য সংস্থার সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট এবং ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইনফান্তিনোর ‘পক্ষে’ ভোট না দিলে বাংলাদেশ হারাবে ৩৭০ কোটি টাকা

আপডেটের সময় : ০৮:১১:৪৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাবে রাজি না হলে ২১১ সদস্য দেশকে ৩০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা বন্ধের সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মূলত নিজের এই বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবার সরাসরি সদস্য দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ালেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৫৩ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ভোটাভুটিতে অনুমোদন পেলেই ফিফা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করবে। এর অধীনে বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালিত হবে। প্রতিষ্ঠানটিতে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ থাকবে।

ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ২০২৭-২০৩১ চক্রে ফিফা ফরওয়ার্ড কর্মসূচির অনুদান প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোকে এককালীন ২০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অনুদান দেওয়া হবে।

তবে প্রস্তাবটি পাস না হলে সদস্য দেশগুলো মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার পাবে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য ৩০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ থেকে বঞ্চিত হবে তারা। ভবিষ্যতে এই অনুদান আরও বাড়িয়ে ২০৩৫-২০৩৮ চক্রে ২৪ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের মতো অনেক ছোট ফুটবল ফেডারেশন জাতীয় দল পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, একাডেমি ও তৃণমূল ফুটবল পরিচালনায় ফিফার এই অর্থের ওপর নির্ভরশীল। ইনফান্তিনো আগেই দাবি করেছিলেন, ‘ফিফা না থাকলে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে ফুটবল টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো না।’

তবে এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। উয়েফা অভিযোগ করেছে, ফিফা ফুটবলের ‘আত্মা বিক্রি’ করতে চাইছে। ইউরোপের ফুটবল কর্তারা বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকছেন এবং বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানিয়েছে, তারা আগে থেকে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানত না। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘প্রস্তাবের প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা ও নীতিগত দিক নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর আমরা আমাদের অবস্থান জানাব।’

এদিকে উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তবে আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক সদস্য সংস্থার সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট এবং ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

Share this news as a Photo Card