নিউইয়র্ক ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান ইস্যুতে মধ্যস্থতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চাইলো পাকিস্তান

  • আপডেটের সময় : ০৯:০৭:১২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নিয়ে চলা আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘বিনিময় স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল’ চেয়েছে পাকিস্তান। বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সকে একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আবেদনটি অনুমোদন পেলে চরম অর্থসংকটে থাকা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথমবার প্রকাশ্যে আসা এ অনুরোধটি করা হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনের ঠিক পরপরই। এই কূটনৈতিক তৎপরতা পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য দেশের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো চিঠিতে ইসলামাবাদ পাঁচ বছর মেয়াদি ১০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।

পাকিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর শর্তসাপেক্ষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই নতুন তহবিল পাওয়া গেলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, রুপির ওপর চাপ কমবে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরতাও অনেকাংশে কমে আসবে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ও রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব। বৈঠকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তবে বিবৃতিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সহজ প্রবেশ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং ক্রেডিট রেটিং উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী। উভয়পক্ষ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা, মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর ফলে দেশটিকে কর বাড়ানো, সরকারি ব্যয় কমানোসহ নানা অপ্রিয় সংস্কার করতে হচ্ছে।

‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফ্যাসিলিটি’ মার্কিন ট্রেজারির একটি বিরল সহায়তা ব্যবস্থা, যা সাধারণত ডলার, মুদ্রা বিনিময় বা গ্যারান্টির মাধ্যমে দেশের রিজার্ভ রক্ষা ও মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

এর আগে মেক্সিকোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সোয়াপ লাইন ছাড়া ২০০২ সালে উরুগুয়ে এবং সাম্প্রতিককালে আর্জেন্টিনা এ ধরনের সহায়তা পেয়েছে।

পাকিস্তান ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ডলারের সাময়িক চুক্তির মাধ্যমে খেলাপি হওয়া থেকে বেঁচে যায়। পরে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থসহ মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন পায়। তবে এখনও দেশটির রিজার্ভ মূলত চীন, সৌদি আরবের আমানত এবং অন্যান্য অফিসিয়াল সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে পাকিস্তানকে, যা তখনকার রিজার্ভের একটি বড় অংশ ছিল। পরে সৌদি আরব নতুন করে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আমেরিকানরা ইরান যুদ্ধের বিরোধী নয়: ট্রাম্প

জেন-জি আন্দোলনের মধ্যে ৫ দফা দাবি পেশ করলেন রাহুল গান্ধী

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরান ইস্যুতে মধ্যস্থতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চাইলো পাকিস্তান

আপডেটের সময় : ০৯:০৭:১২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নিয়ে চলা আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘বিনিময় স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল’ চেয়েছে পাকিস্তান। বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সকে একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আবেদনটি অনুমোদন পেলে চরম অর্থসংকটে থাকা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথমবার প্রকাশ্যে আসা এ অনুরোধটি করা হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনের ঠিক পরপরই। এই কূটনৈতিক তৎপরতা পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য দেশের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো চিঠিতে ইসলামাবাদ পাঁচ বছর মেয়াদি ১০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।

পাকিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর শর্তসাপেক্ষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই নতুন তহবিল পাওয়া গেলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, রুপির ওপর চাপ কমবে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরতাও অনেকাংশে কমে আসবে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ও রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব। বৈঠকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তবে বিবৃতিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সহজ প্রবেশ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং ক্রেডিট রেটিং উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী। উভয়পক্ষ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা, মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর ফলে দেশটিকে কর বাড়ানো, সরকারি ব্যয় কমানোসহ নানা অপ্রিয় সংস্কার করতে হচ্ছে।

‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফ্যাসিলিটি’ মার্কিন ট্রেজারির একটি বিরল সহায়তা ব্যবস্থা, যা সাধারণত ডলার, মুদ্রা বিনিময় বা গ্যারান্টির মাধ্যমে দেশের রিজার্ভ রক্ষা ও মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

এর আগে মেক্সিকোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সোয়াপ লাইন ছাড়া ২০০২ সালে উরুগুয়ে এবং সাম্প্রতিককালে আর্জেন্টিনা এ ধরনের সহায়তা পেয়েছে।

পাকিস্তান ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ডলারের সাময়িক চুক্তির মাধ্যমে খেলাপি হওয়া থেকে বেঁচে যায়। পরে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থসহ মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন পায়। তবে এখনও দেশটির রিজার্ভ মূলত চীন, সৌদি আরবের আমানত এবং অন্যান্য অফিসিয়াল সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে পাকিস্তানকে, যা তখনকার রিজার্ভের একটি বড় অংশ ছিল। পরে সৌদি আরব নতুন করে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে।

Share this news as a Photo Card