নিউইয়র্ক ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেন-জি আন্দোলনের মধ্যে ৫ দফা দাবি পেশ করলেন রাহুল গান্ধী

  • আপডেটের সময় : ০৮:৫৮:২৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে শিক্ষার্থীদের ‘জেন-জি’ আন্দোলন ও পুলিশি অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে দমন না করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
  • সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার।
  • শিক্ষার্থীদের ওপর অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।
  • বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা।
  • দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। রাহুলকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাতের দিকে দুই নেতাকেই মুক্তি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার অন্যায় আচরণ করছে। নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।

শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়াতে গিয়ে কেন পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে? এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন, আর এসব প্রশ্ন করায় কোনো ভুল নেই।’

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের সবাই চান, বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হোক।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে যারা লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনার অবস্থান থেকে সরে এসে এখন মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি তুলছেন। তার ভাষায়, এ ধরনের অবস্থান পরিবর্তন গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, সরকার এ বিষয়ে সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও বিরোধী দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করছে। তার দাবি, সমস্যার সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনই কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আমেরিকানরা ইরান যুদ্ধের বিরোধী নয়: ট্রাম্প

জেন-জি আন্দোলনের মধ্যে ৫ দফা দাবি পেশ করলেন রাহুল গান্ধী

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জেন-জি আন্দোলনের মধ্যে ৫ দফা দাবি পেশ করলেন রাহুল গান্ধী

আপডেটের সময় : ০৮:৫৮:২৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতে শিক্ষার্থীদের ‘জেন-জি’ আন্দোলন ও পুলিশি অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে দমন না করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
  • সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার।
  • শিক্ষার্থীদের ওপর অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।
  • বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা।
  • দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। রাহুলকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাতের দিকে দুই নেতাকেই মুক্তি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার অন্যায় আচরণ করছে। নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।

শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়াতে গিয়ে কেন পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে? এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন, আর এসব প্রশ্ন করায় কোনো ভুল নেই।’

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের সবাই চান, বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হোক।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে যারা লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনার অবস্থান থেকে সরে এসে এখন মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি তুলছেন। তার ভাষায়, এ ধরনের অবস্থান পরিবর্তন গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, সরকার এ বিষয়ে সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও বিরোধী দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করছে। তার দাবি, সমস্যার সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনই কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য।

Share this news as a Photo Card