নিউইয়র্ক ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘এই লং মার্চ কোনো দলের নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের লং মার্চ’

  • আপডেটের সময় : ০৯:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের এই লং মার্চ কোনো দলের নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের লং মার্চ। যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলে এই লংমার্চ করার প্রয়োজন হতোনা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের আটদফা দাবিতে ঢাকা টু রংপুর লংমার্চের গাইবান্ধার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী চৌ মাথার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে আমির বলেন, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হতো, আমরা লংমার্চ এ নামতাম না। দেশে যদি চাঁদাবাজি বন্ধ হতো,  আমরা লংমার্চ করতাম না, দেশ থেকে যদি দুর্নীতি বিদায় নিতো, আমরা লংমার্চ করতাম না, মানুষ যদি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতো তাহলে লংমার্চ করতাম না, আমার কৃষক ভাইকে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ন্যায্য মূল্যে সার দিত, আমরা লংমার্চ করতাম না, যদি ঘরে ঘরে মানুষ জীবনের নিরাপত্তা পেত আমরা লংমার্চ করতাম না।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রিয় দেশবাসী আমাদের এসব দাবি যদি সরকার মেনে নেয়, আল্লাহর কসম লংমার্চের প্রয়োজন হতোনা। এই দাবিগুলো একটাও আমাদের দলের দাবি নয়, প্রত্যেকটা দাবি এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। সরকার যদি এইসব দাবি না মানে। নেয় তাহলে আজ ৮ দফা, কালকে হতে পারে ৯ দফা, এরপর যুক্ত হতে পারে ১০ দফা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব দফা পরিণত হবে ১ দফাতে। আমরা সেই এক দফা এখন চাচ্ছি না। আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি, শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। যদি উদয় না হয়। তাহলে অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে, তব পাপ যেন তারে সমভাবে দহে। আমরা ওই পাপের ভাগ নিতে রাজি হব না।

প্রয়োজনে একদফা দাবি আদায়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখনকার লং মার্চ ঢাকা থেকে গ্রামে। প্রয়োজনে যদি বৃহত্তর লং মার্চের ডাক দেওয়া হয় গ্রাম থেকে ঢাকায়। আপনারা কি প্রস্তত আছেন ? আপনারাতো যাবেনই। সারাদেশের মজলুম ভুক্তভোগী মানুষদের নিয়ে নারী-পুরুষ নিয়ে একসাথে রওনা হবেন। 

তিনি আরও বলেন, আজকে মায়েরা লাঞ্ছিত, শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে, আবার তাদেরকে খুন করা হচ্ছে। আমরা আজকে ঢাকা থেকে আসার পথে হাজার হাজার মহিলা রাস্তায় এসে জনসভায় এসে আমাদেরকে তারা সমর্থন ও সহানুভূতি জানিয়েছেন। সংহতি জানিয়েছেন। আমরা তাদেরকে মোবারকবাদ জানাই। আমরা আস্থাশীল, মায়েরা যখন দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছে। ইনশাআল্লাহ এই দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো। 

পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের  সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাতিসংঘে যতদিন প্রয়োজন ততদিনই সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র সচিব

‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে’

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘এই লং মার্চ কোনো দলের নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের লং মার্চ’

আপডেটের সময় : ০৯:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের এই লং মার্চ কোনো দলের নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের লং মার্চ। যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলে এই লংমার্চ করার প্রয়োজন হতোনা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের আটদফা দাবিতে ঢাকা টু রংপুর লংমার্চের গাইবান্ধার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী চৌ মাথার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে আমির বলেন, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হতো, আমরা লংমার্চ এ নামতাম না। দেশে যদি চাঁদাবাজি বন্ধ হতো,  আমরা লংমার্চ করতাম না, দেশ থেকে যদি দুর্নীতি বিদায় নিতো, আমরা লংমার্চ করতাম না, মানুষ যদি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতো তাহলে লংমার্চ করতাম না, আমার কৃষক ভাইকে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ন্যায্য মূল্যে সার দিত, আমরা লংমার্চ করতাম না, যদি ঘরে ঘরে মানুষ জীবনের নিরাপত্তা পেত আমরা লংমার্চ করতাম না।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রিয় দেশবাসী আমাদের এসব দাবি যদি সরকার মেনে নেয়, আল্লাহর কসম লংমার্চের প্রয়োজন হতোনা। এই দাবিগুলো একটাও আমাদের দলের দাবি নয়, প্রত্যেকটা দাবি এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। সরকার যদি এইসব দাবি না মানে। নেয় তাহলে আজ ৮ দফা, কালকে হতে পারে ৯ দফা, এরপর যুক্ত হতে পারে ১০ দফা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব দফা পরিণত হবে ১ দফাতে। আমরা সেই এক দফা এখন চাচ্ছি না। আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি, শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। যদি উদয় না হয়। তাহলে অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে, তব পাপ যেন তারে সমভাবে দহে। আমরা ওই পাপের ভাগ নিতে রাজি হব না।

প্রয়োজনে একদফা দাবি আদায়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখনকার লং মার্চ ঢাকা থেকে গ্রামে। প্রয়োজনে যদি বৃহত্তর লং মার্চের ডাক দেওয়া হয় গ্রাম থেকে ঢাকায়। আপনারা কি প্রস্তত আছেন ? আপনারাতো যাবেনই। সারাদেশের মজলুম ভুক্তভোগী মানুষদের নিয়ে নারী-পুরুষ নিয়ে একসাথে রওনা হবেন। 

তিনি আরও বলেন, আজকে মায়েরা লাঞ্ছিত, শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে, আবার তাদেরকে খুন করা হচ্ছে। আমরা আজকে ঢাকা থেকে আসার পথে হাজার হাজার মহিলা রাস্তায় এসে জনসভায় এসে আমাদেরকে তারা সমর্থন ও সহানুভূতি জানিয়েছেন। সংহতি জানিয়েছেন। আমরা তাদেরকে মোবারকবাদ জানাই। আমরা আস্থাশীল, মায়েরা যখন দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছে। ইনশাআল্লাহ এই দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো। 

পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের  সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

Share this news as a Photo Card