নিউইয়র্ক ০৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এটি একটি ‘আমরা-মামুরা’ সংশোধন কমিটি: হাসনাত আবদুল্লাহ

  • আপডেটের সময় : ০১:৪৪:০৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধন কমিটিকে ‘আমরা-মামুরা’ সংশোধন কমিটি বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তার অভিযোগ, সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করা অনেককে পদ, চেয়ার কিংবা মন্ত্রণালয়ের লোভ দেখিয়ে নিজেদের পক্ষে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এটি আসলে একটি আমরা-মামুরা সংশোধন কমিটি। আপনারা দেখেছেন, সংস্কারের জন্য যারা দীর্ঘ যুগ ধরে বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, একটি চেয়ার, পদ কিংবা মন্ত্রণালয়ের লোভ দেখিয়ে তাদেরও এখন কিনে নেওয়া হয়েছে। দিনশেষে মানুষ তাদের মূল্যায়ন করবে, বিচার করবে এবং প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’

তিনি বলেন, যিনি বলেছিলেন ‘গণভোটের চেয়ে আলুর দাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ’, মূলত মৌলিক সংস্কারগুলো এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি প্রথমে গণভোট মানতে চাননি। এ ক্ষেত্রে এক ধরনের দ্বিমুখী নীতি কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাতের ভাষ্য, গণভোটের ফলাফলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্টরা একটি অংশ মেনে নিয়েছে, অন্যটি মানেনি। ‘অর্থাৎ, তাদের অবস্থান কাদাজলের মতো—অর্ধেক কাদায় আর অর্ধেক জলে। এভাবে চলতে চলতে সরকার ইতোমধ্যে মানুষের আস্থা হারিয়েছে। সরকার যে মানুষের কথা রাখে না এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে না, তা পরিষ্কার। এখন আবার মানুষের টাকা খরচ করে আরেকটি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে হাসনাত বলেন, বগুড়ার আলুর বাজার ও উৎপাদন খরচ নিয়ে তার পুরোনো বক্তব্যও স্মরণ করা প্রয়োজন। বগুড়াকে আলুর রাজধানী বলা হলেও সেখানকার কৃষকদের উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ১৫ টাকার আলু ১২ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

হাসনাত বলেন, মানুষ যখন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন সরকারের উচিত সেই সংস্কারগুলো মেনে নেওয়া। পাশাপাশি কৃষকেরা যাতে আলুর ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

নতুন কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বা গণভোটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতির কথা উল্লেখ করেছেন। ২০০৬ সালে বিএনপি যেভাবে বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে নিজেদের মতো করে একদলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার চেষ্টা করেছিল, ঠিক সেই আদলে নতুন কোনো প্রতারণামূলক কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা চালুর পাঁয়তারা চলছে।’

এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় কার্ডও ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে জনগণ যে বিষয়ে রায় দিয়েছে, আগে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান এনসিপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘এরপর অন্য কিছু করলে তবেই আমরা বিশ্বাস করব যে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে।’

হাসনাত আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট বা রায় আগে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রথম কাজটি সম্পন্ন না করে দ্বিতীয় ধাপে গেলে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট আরও বাড়বে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

নিউইয়র্ক থেকে ইরানের দুই কূটনীতিককে বহিষ্কার করল যুক্তরাষ্ট্র

০৪ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

এটি একটি ‘আমরা-মামুরা’ সংশোধন কমিটি: হাসনাত আবদুল্লাহ

আপডেটের সময় : ০১:৪৪:০৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সংবিধান সংশোধন কমিটিকে ‘আমরা-মামুরা’ সংশোধন কমিটি বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তার অভিযোগ, সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করা অনেককে পদ, চেয়ার কিংবা মন্ত্রণালয়ের লোভ দেখিয়ে নিজেদের পক্ষে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এটি আসলে একটি আমরা-মামুরা সংশোধন কমিটি। আপনারা দেখেছেন, সংস্কারের জন্য যারা দীর্ঘ যুগ ধরে বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, একটি চেয়ার, পদ কিংবা মন্ত্রণালয়ের লোভ দেখিয়ে তাদেরও এখন কিনে নেওয়া হয়েছে। দিনশেষে মানুষ তাদের মূল্যায়ন করবে, বিচার করবে এবং প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’

তিনি বলেন, যিনি বলেছিলেন ‘গণভোটের চেয়ে আলুর দাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ’, মূলত মৌলিক সংস্কারগুলো এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি প্রথমে গণভোট মানতে চাননি। এ ক্ষেত্রে এক ধরনের দ্বিমুখী নীতি কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাতের ভাষ্য, গণভোটের ফলাফলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্টরা একটি অংশ মেনে নিয়েছে, অন্যটি মানেনি। ‘অর্থাৎ, তাদের অবস্থান কাদাজলের মতো—অর্ধেক কাদায় আর অর্ধেক জলে। এভাবে চলতে চলতে সরকার ইতোমধ্যে মানুষের আস্থা হারিয়েছে। সরকার যে মানুষের কথা রাখে না এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে না, তা পরিষ্কার। এখন আবার মানুষের টাকা খরচ করে আরেকটি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে হাসনাত বলেন, বগুড়ার আলুর বাজার ও উৎপাদন খরচ নিয়ে তার পুরোনো বক্তব্যও স্মরণ করা প্রয়োজন। বগুড়াকে আলুর রাজধানী বলা হলেও সেখানকার কৃষকদের উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ১৫ টাকার আলু ১২ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

হাসনাত বলেন, মানুষ যখন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন সরকারের উচিত সেই সংস্কারগুলো মেনে নেওয়া। পাশাপাশি কৃষকেরা যাতে আলুর ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

নতুন কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বা গণভোটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতির কথা উল্লেখ করেছেন। ২০০৬ সালে বিএনপি যেভাবে বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে নিজেদের মতো করে একদলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার চেষ্টা করেছিল, ঠিক সেই আদলে নতুন কোনো প্রতারণামূলক কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা চালুর পাঁয়তারা চলছে।’

এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় কার্ডও ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে জনগণ যে বিষয়ে রায় দিয়েছে, আগে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান এনসিপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘এরপর অন্য কিছু করলে তবেই আমরা বিশ্বাস করব যে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে।’

হাসনাত আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট বা রায় আগে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রথম কাজটি সম্পন্ন না করে দ্বিতীয় ধাপে গেলে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট আরও বাড়বে।

Share this news as a Photo Card