নিউইয়র্ক ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত ৩ সেনা, আহত ১৬

  • আপডেটের সময় : ০২:২৭:৩৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন। শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। 

সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, সান লুকাস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত সান্তা রোসা দেল সুর শহরের একটি ঘাঁটিতে এ হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সহিংসতা বেড়েছে। এর মধ্যেই এবার সামরিক বাহিনীর স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

স্বর্ণের খনির জন্য পরিচিত সান্তা রোসা দেল সুর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর রয়েছে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) এবং রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) সাবেক সদস্যদের নেতৃত্বাধীন কয়েকটি সশস্ত্র দল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পরপর তিনটি বিস্ফোরণের পর সামরিক ঘাঁটি থেকে ধোঁয়া উঠছে। এ সময় বালির বস্তা দিয়ে তৈরি প্রতিরক্ষা অবস্থানে আশ্রয় নিতে দেখা যায় সেনাদের।

এ হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হামলাকারীদের কোথাও লুকিয়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। সেনাদের ওপর এ ধরনের হামলা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের সংকল্প আরও জোরালো করবে।

গত আগস্টে রক্ষণশীল নেতা দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় আসার পর থেকে কলম্বিয়ার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় সহিংসতা বেড়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ করে তিনি নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

সরকারের নতুন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা বাড়ানো, বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং ক্যারিবীয় উপকূল থেকে মধ্য কলম্বিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনসহ কৌশলগত স্থাপনা সুরক্ষায় যৌথ টাস্কফোর্স গঠন।

সরকারের দাবি, আগের প্রশাসনের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘পরাজিত ব্যক্তি’ বলতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ব্রিফিং ছাড়লেন ট্রাম্প

বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের কেশম দ্বীপ

০৮ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত ৩ সেনা, আহত ১৬

আপডেটের সময় : ০২:২৭:৩৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

কলম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন। শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। 

সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, সান লুকাস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত সান্তা রোসা দেল সুর শহরের একটি ঘাঁটিতে এ হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সহিংসতা বেড়েছে। এর মধ্যেই এবার সামরিক বাহিনীর স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

স্বর্ণের খনির জন্য পরিচিত সান্তা রোসা দেল সুর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর রয়েছে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) এবং রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) সাবেক সদস্যদের নেতৃত্বাধীন কয়েকটি সশস্ত্র দল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পরপর তিনটি বিস্ফোরণের পর সামরিক ঘাঁটি থেকে ধোঁয়া উঠছে। এ সময় বালির বস্তা দিয়ে তৈরি প্রতিরক্ষা অবস্থানে আশ্রয় নিতে দেখা যায় সেনাদের।

এ হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হামলাকারীদের কোথাও লুকিয়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। সেনাদের ওপর এ ধরনের হামলা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের সংকল্প আরও জোরালো করবে।

গত আগস্টে রক্ষণশীল নেতা দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় আসার পর থেকে কলম্বিয়ার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় সহিংসতা বেড়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ করে তিনি নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

সরকারের নতুন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা বাড়ানো, বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং ক্যারিবীয় উপকূল থেকে মধ্য কলম্বিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনসহ কৌশলগত স্থাপনা সুরক্ষায় যৌথ টাস্কফোর্স গঠন।

সরকারের দাবি, আগের প্রশাসনের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করেছে।

Share this news as a Photo Card