নিউইয়র্ক ০৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাল না পেয়ে হতাশ পূর্ব সুন্দরবনের জেলেরা, মৎস্য বিভাগকে দুষছে বন বিভাগ

  • আপডেটের সময় : ০৬:৫৩:৩৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রথমবারের মতো ভিজিএফ চাল বরাদ্দ করেছে সরকার। পশ্চিম সুন্দরবনে তালিকাভুক্ত সব জেলের চাল বরাদ্দ হলেও পূর্ব সুন্দরবনে তালিকার চার ভাগের এক ভাগ জেলের জন্য চাল বরাদ্দ এসেছে।

বর্তমানে সুন্দরবনে মাছ ধরায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এই পরিস্থিতি সরকারি সহায়তার চাল না পেয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন জেলেরা। অন্যদিকে মৎস্য বিভাগের অসহযোগিতার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে প্রতি বছর  জুন, জুলাই ও আগস্ট এই ৩ মাস মাছ ধরা বন্ধের জন্য সুন্দরবন বিভাগ গত ২০২০ সালের ২৮ জুলাই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে তিন মাস জেলেরা মাছ ধরতে না পেরে বেকার হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এক প্রকার মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। নিষেধাজ্ঞা জারির ৬ বছর পরে এই প্রথমবার মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ১২টি উপজেলার সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে ৮ হাজার ২৭১টি জেলে পরিবারের জন্য গত ১৬ জুলাই ৬৬১ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মাসিক ৪০ কেজি করে জুলাই-আগস্ট এ দুই মাসের মোট ৮০ কেজি করে চাল পাবেন জেলে পরিবারগুলো।

তবে স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, পশ্চিম বন বিভাগের তালিকাভুক্ত জেলেদের অতিরিক্ত জেলের নামে চাল বরাদ্দ হলেও পূর্ব বন বিভাগে সব জেলের নামে চাল বরাদ্দ হয়নি।

বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. দুলাল ফরাজী বলেন, অনেক আবেদন নিবেদনের পরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ করায় জেলেরা খুশি হয়েছে। তবে পূর্ব সুন্দরবনের সব জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ না হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাসানুর রহমান বলেন, পশ্চিম বন বিভাগে মোট তালিকাভুক্ত জেলে ৬ হাজার ৩১৭ জনের মধ্যে খুলনা রেঞ্জে ৪ হাজার ৬৮ ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২ হাজার ২৪৯ জন। পশ্চিম বন বিভাগে ৬ হাজার ৭৮২ জেলের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ হয়েছে বলে ডিএফও জানান।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত জেলেদের তথ্য যাচাই বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকার জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে তালিকাভুক্ত ৮ হাজার ৫৪০ জন জেলের বিপরীতে মাত্র ১ হাজার ৪৮৯ জন জেলের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। মৎস্য বিভাগের অসহযোগিতার কারণে এমনটি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

চীনের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ডেলিভারিম্যান কবি ওয়াং জিবিং 

মার্কিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

২৫ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

চাল না পেয়ে হতাশ পূর্ব সুন্দরবনের জেলেরা, মৎস্য বিভাগকে দুষছে বন বিভাগ

আপডেটের সময় : ০৬:৫৩:৩৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রথমবারের মতো ভিজিএফ চাল বরাদ্দ করেছে সরকার। পশ্চিম সুন্দরবনে তালিকাভুক্ত সব জেলের চাল বরাদ্দ হলেও পূর্ব সুন্দরবনে তালিকার চার ভাগের এক ভাগ জেলের জন্য চাল বরাদ্দ এসেছে।

বর্তমানে সুন্দরবনে মাছ ধরায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এই পরিস্থিতি সরকারি সহায়তার চাল না পেয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন জেলেরা। অন্যদিকে মৎস্য বিভাগের অসহযোগিতার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে প্রতি বছর  জুন, জুলাই ও আগস্ট এই ৩ মাস মাছ ধরা বন্ধের জন্য সুন্দরবন বিভাগ গত ২০২০ সালের ২৮ জুলাই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে তিন মাস জেলেরা মাছ ধরতে না পেরে বেকার হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এক প্রকার মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। নিষেধাজ্ঞা জারির ৬ বছর পরে এই প্রথমবার মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ১২টি উপজেলার সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে ৮ হাজার ২৭১টি জেলে পরিবারের জন্য গত ১৬ জুলাই ৬৬১ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মাসিক ৪০ কেজি করে জুলাই-আগস্ট এ দুই মাসের মোট ৮০ কেজি করে চাল পাবেন জেলে পরিবারগুলো।

তবে স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, পশ্চিম বন বিভাগের তালিকাভুক্ত জেলেদের অতিরিক্ত জেলের নামে চাল বরাদ্দ হলেও পূর্ব বন বিভাগে সব জেলের নামে চাল বরাদ্দ হয়নি।

বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. দুলাল ফরাজী বলেন, অনেক আবেদন নিবেদনের পরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ করায় জেলেরা খুশি হয়েছে। তবে পূর্ব সুন্দরবনের সব জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ না হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাসানুর রহমান বলেন, পশ্চিম বন বিভাগে মোট তালিকাভুক্ত জেলে ৬ হাজার ৩১৭ জনের মধ্যে খুলনা রেঞ্জে ৪ হাজার ৬৮ ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২ হাজার ২৪৯ জন। পশ্চিম বন বিভাগে ৬ হাজার ৭৮২ জেলের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ হয়েছে বলে ডিএফও জানান।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত জেলেদের তথ্য যাচাই বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকার জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে তালিকাভুক্ত ৮ হাজার ৫৪০ জন জেলের বিপরীতে মাত্র ১ হাজার ৪৮৯ জন জেলের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। মৎস্য বিভাগের অসহযোগিতার কারণে এমনটি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card