নিউইয়র্ক ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য অর্থ আদায়, কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

  • আপডেটের সময় : ০৫:২৪:১৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় করা মামলার মূল উদ্দেশ্য চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, আসামিকে কারাগারে পাঠানো নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের মামলায় কারাদণ্ড একটি কঠোর সাজা। তাই বিশেষ ও উপযুক্ত পরিস্থিতি ছাড়া এ সাজা দেওয়া উচিত নয়।

মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য  মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ২২ জুলাই রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এর লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

রায়ে আদালত আসামির অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ড বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে চেকের বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড হলেও অর্থদণ্ড পরিশোধের দায় থেকে তিনি মুক্তি পাবেন না।

রায়ে ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির তুলে ধরে হাইকোর্ট বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া একটি অতি কঠোর সাজা, যা থেকে কোনো শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। ওই মামলায় দেওয়া নীতির সঙ্গে আদালত সম্পূর্ণ একমত বলেও উল্লেখ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসামি মো. আলাউদ্দিন বাদীর (যিনি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা আদালতের বাদী ছিলেন) কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। উক্ত ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে আলাউদ্দিন রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক প্রদান করেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকার কারণে তা (চেক) নাকচ (ডিজঅনার) হয়। পরবর্তী সময়ে আইনি নোটিশ প্রদান ও নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাদী ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত) আদালতে এনআই অ্যাক্টের আইনে (সি.আর.) মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তা বরিশাল দায়রা জজ আদালতে পাঠান। দায়রা জজ মামলাটি বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ওই আদালত ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর এআই অ্যাক্টর ১৩৮ ধারায় আসামি আলা উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

এরপর ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত আসামি মো. আলাউদ্দিনকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন। পরে অর্থদণ্ডের অর্ধেক (২ লাখ ৫০ হাজার) টাকা জমা দিয়ে বরিশাল দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন আসামি আলাউদ্দিন। পরে আপিল আদালত (বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ) ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির আপিল খারিজ করে দেন।

বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আসামি আলাউদ্দিন হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। গত ২২ জুলাই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের সাজার অংশটি ন্যায় বিচারের স্বার্থে সংশোধন করে তা (কারাদণ্ড) বাতিল করে দেন। অর্থাৎ আসামির অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ড বাতিল করে দেন আদালত।

রায়ের কপি প্রাপ্তির তিনি মাসের মধ্যে আসামিকে (আলাউদ্দিন) ডিজঅনার চেকের অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। অনাদায়ে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও তিনি জরিমানা পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদালত উক্ত টাকা আদায় করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

স্পেনে দাবানল পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার

জাপানের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮, চলছে উদ্ধার অভিযান

৩১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য অর্থ আদায়, কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

আপডেটের সময় : ০৫:২৪:১৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় করা মামলার মূল উদ্দেশ্য চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, আসামিকে কারাগারে পাঠানো নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের মামলায় কারাদণ্ড একটি কঠোর সাজা। তাই বিশেষ ও উপযুক্ত পরিস্থিতি ছাড়া এ সাজা দেওয়া উচিত নয়।

মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য  মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ২২ জুলাই রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এর লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

রায়ে আদালত আসামির অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ড বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে চেকের বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড হলেও অর্থদণ্ড পরিশোধের দায় থেকে তিনি মুক্তি পাবেন না।

রায়ে ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির তুলে ধরে হাইকোর্ট বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া একটি অতি কঠোর সাজা, যা থেকে কোনো শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। ওই মামলায় দেওয়া নীতির সঙ্গে আদালত সম্পূর্ণ একমত বলেও উল্লেখ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসামি মো. আলাউদ্দিন বাদীর (যিনি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা আদালতের বাদী ছিলেন) কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। উক্ত ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে আলাউদ্দিন রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক প্রদান করেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকার কারণে তা (চেক) নাকচ (ডিজঅনার) হয়। পরবর্তী সময়ে আইনি নোটিশ প্রদান ও নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাদী ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত) আদালতে এনআই অ্যাক্টের আইনে (সি.আর.) মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তা বরিশাল দায়রা জজ আদালতে পাঠান। দায়রা জজ মামলাটি বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ওই আদালত ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর এআই অ্যাক্টর ১৩৮ ধারায় আসামি আলা উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

এরপর ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত আসামি মো. আলাউদ্দিনকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন। পরে অর্থদণ্ডের অর্ধেক (২ লাখ ৫০ হাজার) টাকা জমা দিয়ে বরিশাল দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন আসামি আলাউদ্দিন। পরে আপিল আদালত (বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ) ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির আপিল খারিজ করে দেন।

বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আসামি আলাউদ্দিন হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। গত ২২ জুলাই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের সাজার অংশটি ন্যায় বিচারের স্বার্থে সংশোধন করে তা (কারাদণ্ড) বাতিল করে দেন। অর্থাৎ আসামির অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ড বাতিল করে দেন আদালত।

রায়ের কপি প্রাপ্তির তিনি মাসের মধ্যে আসামিকে (আলাউদ্দিন) ডিজঅনার চেকের অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। অনাদায়ে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও তিনি জরিমানা পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদালত উক্ত টাকা আদায় করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।

Share this news as a Photo Card