নিউইয়র্ক ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে ফারুক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

  • আপডেটের সময় : ১২:৪০:০২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইল সদরের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সঞ্জিত ঘোষ নামে এক আসামিকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় দেন। নিহত রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ও শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১)। 

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সদর উপজেলার কাঠুয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২), শ্রীফলিয়াটার মো. রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন (৩৪), কাগমারা এলাকার নুরুল ইসলাম নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক (২৫) ও ছিটকীবাড়ী গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ইমন (২৫)। তাদের মধ্যে শফিক ও রুজবেল পলাতক রয়েছেন। 

রায়ে সঞ্জিত ঘোষ (২৬) নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সঞ্জিত ঘোষ টাঙ্গাইল সদর থানার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে। তিনি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান স্বপন নয়া দিগন্তকে জানান, রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হাঁটতে বের হন। তিনি আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে  গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ বিগত ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আট জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। গোয়েন্দা পুলিশের এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদী লাভলু মিয়া আদালতে নারাজি আবেদন করেন। 

পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ সেই আট জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। বিচার শেষে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককেই আরোএকবছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম শামিমুল আকতার (শামিম)।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দূরপাল্লায় ২০ পয়সা/কিমি ও শহরে ১৮ পয়সা/কিমি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সামনে ৩টি পথ খোলা আছে: ট্রাম্প

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

টাঙ্গাইলে ফারুক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

আপডেটের সময় : ১২:৪০:০২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইল সদরের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সঞ্জিত ঘোষ নামে এক আসামিকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় দেন। নিহত রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ও শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১)। 

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সদর উপজেলার কাঠুয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২), শ্রীফলিয়াটার মো. রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন (৩৪), কাগমারা এলাকার নুরুল ইসলাম নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক (২৫) ও ছিটকীবাড়ী গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ইমন (২৫)। তাদের মধ্যে শফিক ও রুজবেল পলাতক রয়েছেন। 

রায়ে সঞ্জিত ঘোষ (২৬) নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সঞ্জিত ঘোষ টাঙ্গাইল সদর থানার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে। তিনি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান স্বপন নয়া দিগন্তকে জানান, রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হাঁটতে বের হন। তিনি আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে  গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ বিগত ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আট জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। গোয়েন্দা পুলিশের এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদী লাভলু মিয়া আদালতে নারাজি আবেদন করেন। 

পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ সেই আট জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। বিচার শেষে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককেই আরোএকবছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম শামিমুল আকতার (শামিম)।

Share this news as a Photo Card