নিউইয়র্ক ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাফিক জরিমানা আদায়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের অভিনব পরামর্শ

  • আপডেটের সময় : ০২:১০:৪৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জরিমানা আদায়ে তা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় মানুষ বকেয়া জরিমানাও পরিশোধ করতে আগ্রহী হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ মৌখিকভাবে এ পরামর্শ দেন।

আদালতকে জানানো হয়, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতে দীর্ঘদিন ধরে ই-চালান দেওয়া হচ্ছে। এসব জরিমানার মোট পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি রুপি হলেও এখন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ২৫ হাজার কোটি রুপি। অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি রুপি এখনো অনাদায়ি রয়েছে।

এ সময় বিচারপতি পর্দিওয়ালা বলেন, মানুষ স্বেচ্ছায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তা আদায়ে বিকল্প পদ্ধতি নেওয়া যেতে পারে। জরিমানার অর্থ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে মানুষ জরিমানার অর্থও পরিশোধ করবে।

বিচারপতিরা প্রতিটি রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, শুধু ই-চালান পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, জরিমানার অর্থ আদায়ের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। জরিমানা আরোপের পাশাপাশি তা আদায় করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তারা।

জরিমানা আদায়ে আরও কয়েকটি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। এর মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিলের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো গাড়ির মালিকের জরিমানা বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট গাড়িকে পরিবহন পোর্টালে কালোতালিকাভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ওই গাড়ি বিক্রি বা মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে না। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নবায়নও স্থগিত রাখা যেতে পারে বলে মত দেন বিচারপতিরা।

পাশাপাশি ফিটনেস সার্টিফিকেট ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় আকস্মিক নজরদারি চালিয়ে বকেয়া জরিমানা আদায় এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এসব পর্যবেক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো, ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জরিমানা শুধু আরোপ না করে তা কার্যকরভাবে আদায়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মেয়েকে শেখাচ্ছিলেন ড্রাইভিং, সেই গাড়ির ধাক্কাতেই প্রাণ গেল বাবার

বাংলাদেশকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে না কাতার এনার্জি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ট্রাফিক জরিমানা আদায়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের অভিনব পরামর্শ

আপডেটের সময় : ০২:১০:৪৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জরিমানা আদায়ে তা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় মানুষ বকেয়া জরিমানাও পরিশোধ করতে আগ্রহী হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ মৌখিকভাবে এ পরামর্শ দেন।

আদালতকে জানানো হয়, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতে দীর্ঘদিন ধরে ই-চালান দেওয়া হচ্ছে। এসব জরিমানার মোট পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি রুপি হলেও এখন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ২৫ হাজার কোটি রুপি। অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি রুপি এখনো অনাদায়ি রয়েছে।

এ সময় বিচারপতি পর্দিওয়ালা বলেন, মানুষ স্বেচ্ছায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তা আদায়ে বিকল্প পদ্ধতি নেওয়া যেতে পারে। জরিমানার অর্থ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে মানুষ জরিমানার অর্থও পরিশোধ করবে।

বিচারপতিরা প্রতিটি রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, শুধু ই-চালান পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, জরিমানার অর্থ আদায়ের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। জরিমানা আরোপের পাশাপাশি তা আদায় করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তারা।

জরিমানা আদায়ে আরও কয়েকটি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। এর মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিলের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো গাড়ির মালিকের জরিমানা বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট গাড়িকে পরিবহন পোর্টালে কালোতালিকাভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ওই গাড়ি বিক্রি বা মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে না। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নবায়নও স্থগিত রাখা যেতে পারে বলে মত দেন বিচারপতিরা।

পাশাপাশি ফিটনেস সার্টিফিকেট ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় আকস্মিক নজরদারি চালিয়ে বকেয়া জরিমানা আদায় এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এসব পর্যবেক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো, ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জরিমানা শুধু আরোপ না করে তা কার্যকরভাবে আদায়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

Share this news as a Photo Card