নিউইয়র্ক ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামলো

  • আপডেটের সময় : ০২:১২:৪০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারেও। তবে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ বাড়লেও বিশ্ববাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়নি; বরং টানা কমছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৬ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে আসে। এর ফলে সাত সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সোমবারই সোনার দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সোনার দামে আরও পতন হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় মঙ্গলবার বেলা তিনটায় সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৪০ ডলার। এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা ও গোল্ড প্রাইস ডট অর্গ।

সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার আগাম সরবরাহের চুক্তির (ফিউচার) দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৭৮ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের তেজিভাব ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। এতে সোনার দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় সোনার যে দাম ছিল, তা ৫ আগস্টের পর সোনার সর্বনিম্ন দাম। সোনা সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কেননা, বিনিয়োগকারীরা সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়, তখন এ ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহ বোধ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শরিফ ওথমান আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব তেমন না–ও পড়তে পারে। তবে যেসব বিনিয়োগকারী সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় ক্ষতিবৃদ্ধি হতে পারে।’

শরিফ ওথমান আরও বলেন, ‘সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না। তাই ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, এতে সোনার মূল্য কমে যায়।’

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নীতি সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক মাসে আরও অন্তত এক দফা সুদহার বাড়ানোর আশঙ্কা আছে, এমন কথা জানিয়েছে। এদিকে মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সংঘাত নিরসন ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে গেছে।

এসব কারণে কয়েকজন নীতিনির্ধারক সতর্ক করেছেন, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। ফলে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তাঁদের মধ্যে ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাকও সর্বশেষ এই মত দিয়েছেন।

আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফের মতে, ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ও মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি-সোনার দাম কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটা আদর্শ বাস্তবতা।

এদিকে আজ রুপার দাম ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৬০ দশমিক ০৭ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া অন্যান্য ধাতু যেমন, প্লাটিনাম, প্যালাডিয়াম ইত্যাদি ধাতুর দামও কমতির দিকে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মেয়েকে শেখাচ্ছিলেন ড্রাইভিং, সেই গাড়ির ধাক্কাতেই প্রাণ গেল বাবার

বাংলাদেশকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে না কাতার এনার্জি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামলো

আপডেটের সময় : ০২:১২:৪০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারেও। তবে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ বাড়লেও বিশ্ববাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়নি; বরং টানা কমছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৬ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে আসে। এর ফলে সাত সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সোমবারই সোনার দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সোনার দামে আরও পতন হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় মঙ্গলবার বেলা তিনটায় সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৪০ ডলার। এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা ও গোল্ড প্রাইস ডট অর্গ।

সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার আগাম সরবরাহের চুক্তির (ফিউচার) দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৭৮ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের তেজিভাব ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। এতে সোনার দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় সোনার যে দাম ছিল, তা ৫ আগস্টের পর সোনার সর্বনিম্ন দাম। সোনা সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কেননা, বিনিয়োগকারীরা সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়, তখন এ ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহ বোধ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শরিফ ওথমান আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব তেমন না–ও পড়তে পারে। তবে যেসব বিনিয়োগকারী সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় ক্ষতিবৃদ্ধি হতে পারে।’

শরিফ ওথমান আরও বলেন, ‘সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না। তাই ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, এতে সোনার মূল্য কমে যায়।’

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নীতি সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক মাসে আরও অন্তত এক দফা সুদহার বাড়ানোর আশঙ্কা আছে, এমন কথা জানিয়েছে। এদিকে মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সংঘাত নিরসন ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে গেছে।

এসব কারণে কয়েকজন নীতিনির্ধারক সতর্ক করেছেন, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। ফলে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তাঁদের মধ্যে ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাকও সর্বশেষ এই মত দিয়েছেন।

আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফের মতে, ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ও মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি-সোনার দাম কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটা আদর্শ বাস্তবতা।

এদিকে আজ রুপার দাম ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৬০ দশমিক ০৭ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া অন্যান্য ধাতু যেমন, প্লাটিনাম, প্যালাডিয়াম ইত্যাদি ধাতুর দামও কমতির দিকে।

Share this news as a Photo Card