নিউইয়র্ক ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধরা পড়া মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি নকল করবে ইরান

  • আপডেটের সময় : ০৩:১৯:০৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে ফের একটি মার্কিন ডুবো ড্রোন আটক করেছে ইরান। তবে ড্রোনটি আটক করেই থেমে থাকছে না দেশটি। এবার এর ভেতরে থাকা উন্নত প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, তা খতিয়ে দেখবে তারা। এরপর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ঐ প্রযুক্তি নিজেদের কাজে লাগাবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। এ সময় সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় উন্নত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোহেবি বলেছেন, ঐ যুদ্ধ দেখিয়েছে সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলো এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। উন্নত প্রযুক্তির এ যুদ্ধবিমানও ইরানের নতুন ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার নিশানায় পড়েছিল দাবি করেন তিনি।

আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ ধাতুর তৈরি কাঠামো, রাডারে ধরা না পড়ার প্রযুক্তি, বেশি উচ্চতায় উড়তে পারা ও অস্ত্র বহনের সক্ষমতা। এ সময় আইআরজিসি নেভির সদস্যদের হাতে ধরা পড়া মার্কিন ডুবো যানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ঐ ডুবো যানে থাকা উন্নত প্রযুক্তি এখন ইরানি বাহিনীর হাতে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মোহেবি জানান, আইআরজিসি নেভির হাতে আসা ঐ ডুবো যানে থাকা উন্নত প্রযুক্তির রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং দ্রুতই শুরু হবে। অর্থাৎ ডুবো যানের প্রযুক্তি ও কাঠামো বিশ্লেষণ করে কীভাবে এটি তৈরি করা হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করবে ইরান। পরে, এ প্রযুক্তি সম্পর্কে পাওয়া জ্ঞান নিজেদের প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে দেশটি।

ইরানের হাতে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক বিমান, পরিবহন বিমান, নজরদারি বিমান, ডুবো যান ও চালকবিহীন যান রয়েছে বলেও দাবি করেছেন আইআরজিসির এ মুখপাত্র। তিনি বলেন, যুদ্ধ, সহায়তা, পরিবহন ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে। তবে, বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ইরানের হাতে ধরা পড়া এই ডুবো ড্রোন থেকে বড় ধরনের সামরিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়ে যে ভাবমূর্তি রয়েছে, তাতে ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

ধরা পড়া মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি নকল করবে ইরান

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ধরা পড়া মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি নকল করবে ইরান

আপডেটের সময় : ০৩:১৯:০৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে ফের একটি মার্কিন ডুবো ড্রোন আটক করেছে ইরান। তবে ড্রোনটি আটক করেই থেমে থাকছে না দেশটি। এবার এর ভেতরে থাকা উন্নত প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, তা খতিয়ে দেখবে তারা। এরপর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ঐ প্রযুক্তি নিজেদের কাজে লাগাবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। এ সময় সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় উন্নত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোহেবি বলেছেন, ঐ যুদ্ধ দেখিয়েছে সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলো এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। উন্নত প্রযুক্তির এ যুদ্ধবিমানও ইরানের নতুন ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার নিশানায় পড়েছিল দাবি করেন তিনি।

আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ ধাতুর তৈরি কাঠামো, রাডারে ধরা না পড়ার প্রযুক্তি, বেশি উচ্চতায় উড়তে পারা ও অস্ত্র বহনের সক্ষমতা। এ সময় আইআরজিসি নেভির সদস্যদের হাতে ধরা পড়া মার্কিন ডুবো যানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ঐ ডুবো যানে থাকা উন্নত প্রযুক্তি এখন ইরানি বাহিনীর হাতে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মোহেবি জানান, আইআরজিসি নেভির হাতে আসা ঐ ডুবো যানে থাকা উন্নত প্রযুক্তির রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং দ্রুতই শুরু হবে। অর্থাৎ ডুবো যানের প্রযুক্তি ও কাঠামো বিশ্লেষণ করে কীভাবে এটি তৈরি করা হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করবে ইরান। পরে, এ প্রযুক্তি সম্পর্কে পাওয়া জ্ঞান নিজেদের প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে দেশটি।

ইরানের হাতে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক বিমান, পরিবহন বিমান, নজরদারি বিমান, ডুবো যান ও চালকবিহীন যান রয়েছে বলেও দাবি করেছেন আইআরজিসির এ মুখপাত্র। তিনি বলেন, যুদ্ধ, সহায়তা, পরিবহন ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে। তবে, বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ইরানের হাতে ধরা পড়া এই ডুবো ড্রোন থেকে বড় ধরনের সামরিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়ে যে ভাবমূর্তি রয়েছে, তাতে ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card