নিউইয়র্ক ০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিস্থিতি বেগতিক দেখলেই বারবার দায় এড়ান ট্রাম্প; দোষ চাপান অন্যের ঘাড়ে

  • আপডেটের সময় : ১০:২৩:৪০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে অন্যতম বিখ্যাত বাণী হলো: ‘দ্য বাক স্টপস হিয়ার’, অর্থাৎ ‘পূর্ণ দায়ভার নিলাম’। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেলায় কথাটি প্রায় কখনোই খাটে না।

দুর্বল অর্থনীতি আর এখনো চড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, পূর্বসূরি জো বাইডেন তাকে এই বোঝা দিয়ে গেছেন। অথচ ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন ক্ষমতা ছেড়েছেন ১৮ মাসেরও বেশি সময় আগে। এছাড়া ট্রাম্প নিজেই একসময় ক্ষমতা হাতে পেলেই অর্থনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের সমস্যাগ্রস্ত সংস্কার কাজের প্রসঙ্গে রিপাবলিকান ট্রাম্পের জোর দাবি, এটি নাশকতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও তারই নিয়োগ দেওয়া এক প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নমানের কাজই এ ক্ষতির কারণ। 

ইরান যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়েছে। এর জেরে কমেছে ট্রাম্পের জনসমর্থন, বিশ্ব অর্থনীতিতেও তীব্র ধাক্কা এসেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, এসব মূলত তার পূর্ববর্তী ভীরু প্রেসিডেন্টদের ভুলের মাশুল—যারা তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকানোর প্রায় ৫০ বছরের সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন।

 চটুল ও চটকদার স্লোগানগুলোকে সরিয়ে রাখলে দেখা যায়, আধুনিক যুগের সব প্রেসিডেন্টই কোনো না কোনো মাত্রায় দায়ভার অন্যদের কাঁধে চাপান। তারা প্রায়ই পূর্বসূরি কমান্ডার-ইন-চিফ, কংগ্রেস অথবা উভয়কেই দোষারোপ করেন। তবে ট্রাম্প এই প্রবণতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। বাস্তবে তিনি এমন এক রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন, যার মাধ্যমে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে তিনি থাকবেন কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে কোনো কিছুর দায় তিনি নেবেন না।

ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক নিকোল অ্যানস্লোভার বলেন, ‘যে প্রেসিডেন্সিয়াল নেতৃত্ব বা যেকোনো ধরনের নেতৃত্বের একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো দায় স্বীকার করা।’

ট্রাম্পের অন্যদের দিকে আঙুল তোলার এই প্রবণতাটি নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্রমাগত আলোচনায় আসছে। ভুল স্বীকার করতে এই অনীহা অনেক সময় তাকে সমস্যাগুলোর অস্তিত্বকেই অস্বীকার করার দিকে ঠেলে দেয়। এটি কঠিন লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকান নেতাদের এমন এক পরিস্থিতির মুখে ফেলে দিচ্ছে, যেখানে ভোটারদের উদ্বেগ নিরসনে তাদের আশ্বস্ত করার পথ কঠিন হয়ে পড়ছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প কেবল হাত গুটিয়ে বসে সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করছেন না, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করতে কাজ করছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যথাযথভাবেই তার পূর্বসূরিদের ব্যর্থতাগুলোকে মোকাবিলা করছেন এবং একইসাথে আমেরিকান জনগণের জন্য বড় সাফল্য এনে দিতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’ তিনি এমন কিছু নীতির কথা উল্লেখ করেন, যা তার মতে রিপাবলিকানদের নির্বাচনি প্রচারণায় তুলে ধরার মতো। এর মধ্যে রয়েছে কর ছাড়, প্রেসক্রিপশনের ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ, অভিবাসন ও মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজার শক্তিশালী করা।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার জন্য মনোনীত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ব্যবস্থাটিকে আমার চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না, তাই আমিই এটি ঠিক করতে পারব।’ কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি প্রায়ই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমাধান ও দোষ—উভয়ই অন্য কারও।

২০১৯ সালে সরকারের দীর্ঘ শাটডাউনের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘দায়ভার সবার ওপরই বর্তায় ।’ আবার ২০২০ সালে, যেদিন তিনি করোনা মহামারি মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেন, সেদিন কোভিড পরীক্ষার ঘাটতির প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি এর কোনো দায় নেব না।’ 

তথ্যসূত্র:  Al Jazeera,  Reuters

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়া পর্যটকবাহী বাস হাঙ্গেরিতে উল্টে ১২ জন নিহত

মধ্যরাতে দক্ষিণ স্পেনে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

১৭ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পরিস্থিতি বেগতিক দেখলেই বারবার দায় এড়ান ট্রাম্প; দোষ চাপান অন্যের ঘাড়ে

আপডেটের সময় : ১০:২৩:৪০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে অন্যতম বিখ্যাত বাণী হলো: ‘দ্য বাক স্টপস হিয়ার’, অর্থাৎ ‘পূর্ণ দায়ভার নিলাম’। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেলায় কথাটি প্রায় কখনোই খাটে না।

দুর্বল অর্থনীতি আর এখনো চড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, পূর্বসূরি জো বাইডেন তাকে এই বোঝা দিয়ে গেছেন। অথচ ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন ক্ষমতা ছেড়েছেন ১৮ মাসেরও বেশি সময় আগে। এছাড়া ট্রাম্প নিজেই একসময় ক্ষমতা হাতে পেলেই অর্থনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের সমস্যাগ্রস্ত সংস্কার কাজের প্রসঙ্গে রিপাবলিকান ট্রাম্পের জোর দাবি, এটি নাশকতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও তারই নিয়োগ দেওয়া এক প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নমানের কাজই এ ক্ষতির কারণ। 

ইরান যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়েছে। এর জেরে কমেছে ট্রাম্পের জনসমর্থন, বিশ্ব অর্থনীতিতেও তীব্র ধাক্কা এসেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, এসব মূলত তার পূর্ববর্তী ভীরু প্রেসিডেন্টদের ভুলের মাশুল—যারা তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকানোর প্রায় ৫০ বছরের সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন।

 চটুল ও চটকদার স্লোগানগুলোকে সরিয়ে রাখলে দেখা যায়, আধুনিক যুগের সব প্রেসিডেন্টই কোনো না কোনো মাত্রায় দায়ভার অন্যদের কাঁধে চাপান। তারা প্রায়ই পূর্বসূরি কমান্ডার-ইন-চিফ, কংগ্রেস অথবা উভয়কেই দোষারোপ করেন। তবে ট্রাম্প এই প্রবণতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। বাস্তবে তিনি এমন এক রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন, যার মাধ্যমে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে তিনি থাকবেন কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে কোনো কিছুর দায় তিনি নেবেন না।

ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক নিকোল অ্যানস্লোভার বলেন, ‘যে প্রেসিডেন্সিয়াল নেতৃত্ব বা যেকোনো ধরনের নেতৃত্বের একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো দায় স্বীকার করা।’

ট্রাম্পের অন্যদের দিকে আঙুল তোলার এই প্রবণতাটি নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্রমাগত আলোচনায় আসছে। ভুল স্বীকার করতে এই অনীহা অনেক সময় তাকে সমস্যাগুলোর অস্তিত্বকেই অস্বীকার করার দিকে ঠেলে দেয়। এটি কঠিন লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকান নেতাদের এমন এক পরিস্থিতির মুখে ফেলে দিচ্ছে, যেখানে ভোটারদের উদ্বেগ নিরসনে তাদের আশ্বস্ত করার পথ কঠিন হয়ে পড়ছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প কেবল হাত গুটিয়ে বসে সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করছেন না, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করতে কাজ করছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যথাযথভাবেই তার পূর্বসূরিদের ব্যর্থতাগুলোকে মোকাবিলা করছেন এবং একইসাথে আমেরিকান জনগণের জন্য বড় সাফল্য এনে দিতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’ তিনি এমন কিছু নীতির কথা উল্লেখ করেন, যা তার মতে রিপাবলিকানদের নির্বাচনি প্রচারণায় তুলে ধরার মতো। এর মধ্যে রয়েছে কর ছাড়, প্রেসক্রিপশনের ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ, অভিবাসন ও মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজার শক্তিশালী করা।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার জন্য মনোনীত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ব্যবস্থাটিকে আমার চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না, তাই আমিই এটি ঠিক করতে পারব।’ কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি প্রায়ই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমাধান ও দোষ—উভয়ই অন্য কারও।

২০১৯ সালে সরকারের দীর্ঘ শাটডাউনের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘দায়ভার সবার ওপরই বর্তায় ।’ আবার ২০২০ সালে, যেদিন তিনি করোনা মহামারি মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেন, সেদিন কোভিড পরীক্ষার ঘাটতির প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি এর কোনো দায় নেব না।’ 

তথ্যসূত্র:  Al Jazeera,  Reuters

Share this news as a Photo Card