নিউইয়র্ক ০৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, জাতিসংঘের সতর্কতা

  • আপডেটের সময় : ০৬:০০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ২৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মতে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী হচ্ছে।

বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন অংশ পঞ্চম দফায় গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। চরম খরা, দাবানল ও রেকর্ড তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত অঞ্চলটি। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএমওর জলবায়ু তথ্যপ্রধান জন কেনেডি বলেন, অতীতের তুলনায় তাপপ্রবাহ এখন শুধু বেশি ঘন ঘনই হচ্ছে না, বরং আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ ইউরোপে চলমান তাপপ্রবাহের পেছনে বায়ুমণ্ডলের উচ্চচাপ বলয় ও উষ্ণ জলবায়ুর সম্মিলিত প্রভাব রয়েছে।

উচ্চচাপ বলয় গরম বাতাসকে আটকে রাখার পাশাপাশি মেঘের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং শীতল বাতাসের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে দিনের পর দিন বা সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিশাল এলাকাজুড়ে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে।

সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওঠানামায় এল নিনোর প্রভাব থাকলেও এবারের ইউরোপের তাপপ্রবাহের জন্য এটি দায়ী নয়। বর্তমানে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের অবস্থা অনেকটাই নিরপেক্ষ। কেনেডি বলেন, ১৯৭৬ সালের জুনেও প্রায় একই ধরনের বায়ুমণ্ডলীয় উচ্চ ও নিম্নচাপ পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু তখন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা কম থাকায় ফলাফল ছিল ভিন্ন। সে সময় গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন এলাকায়। বিপরীতে, বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলেই গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে।

ইউরোপের স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতাও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে। ভূমধ্যসাগর ও ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্রের সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ স্থলভাগের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শুষ্কতায় মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ভূমি দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়ছে।

জন কেনেডির ভাষায়, চলতি বছরে রেকর্ড মাত্রার তাপমাত্রার পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিশ্বজুড়ে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, জাতিসংঘের সতর্কতা

আপডেটের সময় : ০৬:০০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মতে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী হচ্ছে।

বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন অংশ পঞ্চম দফায় গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। চরম খরা, দাবানল ও রেকর্ড তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত অঞ্চলটি। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএমওর জলবায়ু তথ্যপ্রধান জন কেনেডি বলেন, অতীতের তুলনায় তাপপ্রবাহ এখন শুধু বেশি ঘন ঘনই হচ্ছে না, বরং আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ ইউরোপে চলমান তাপপ্রবাহের পেছনে বায়ুমণ্ডলের উচ্চচাপ বলয় ও উষ্ণ জলবায়ুর সম্মিলিত প্রভাব রয়েছে।

উচ্চচাপ বলয় গরম বাতাসকে আটকে রাখার পাশাপাশি মেঘের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং শীতল বাতাসের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে দিনের পর দিন বা সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিশাল এলাকাজুড়ে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে।

সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওঠানামায় এল নিনোর প্রভাব থাকলেও এবারের ইউরোপের তাপপ্রবাহের জন্য এটি দায়ী নয়। বর্তমানে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের অবস্থা অনেকটাই নিরপেক্ষ। কেনেডি বলেন, ১৯৭৬ সালের জুনেও প্রায় একই ধরনের বায়ুমণ্ডলীয় উচ্চ ও নিম্নচাপ পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু তখন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা কম থাকায় ফলাফল ছিল ভিন্ন। সে সময় গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন এলাকায়। বিপরীতে, বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলেই গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে।

ইউরোপের স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতাও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে। ভূমধ্যসাগর ও ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্রের সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ স্থলভাগের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শুষ্কতায় মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ভূমি দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়ছে।

জন কেনেডির ভাষায়, চলতি বছরে রেকর্ড মাত্রার তাপমাত্রার পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card