নিউইয়র্ক ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাওনা ৩ লাখ টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী বন্ধুকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন মাসুম 

  • আপডেটের সময় : ১০:২২:১৪ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিম ওরফে রনীর (৪৭) মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় তার বন্ধু মাসুম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নিহত ওয়াসিম লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর শনির আখড়ায় থাকতেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নুসরাত জাহান শুক্রবার লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার উপ-পরিদর্শক বেলায়েত হোসাইন মাসুমকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তা রেকর্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ম্যাজিস্ট্রেট তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেলায়েত হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। ভুক্তভোগী ও আসামি দুজন একই এলাকায় বড় হয়েছেন। তারা বন্ধু ছিলেন, একই স্কুলে পড়েছেন। তারা পৃথক ব্যবসা করতেন। ওয়াসিম জমি বেচাকেনায় মধ্যস্থতা করতেন। আর মাসুম ইমিটেশন গয়নার ব্যবসা করতেন।

এর আগে, গতকাল ভোরে পুরান ঢাকার লালবাগের বি সি দাস স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে তার হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন মোড়ানো ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে ওই ভবনে তার ইমিটেশন তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় পুলিশ।

লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী ওয়াসিম রনী তার বন্ধু মাসুমের কাছে ধার দেওয়া পাওনা তিন লাখ টাকার চেক আনতে যান। কিন্তু আসামি মাসুম ওয়াসিমকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে ওপরে বালি ও সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে গুম করার চেষ্টা করেন।’

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম স্বীকার করেন, ওয়াসিম তার কাছে তিন লাখ টাকা পেতেন এবং সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার টাকা দেওয়ার কথা বলে ওয়াসিমকে কারখানায় ডেকে নেন মাসুম। সেখানে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মাসুম প্রথমে মাথায় আঘাত করে ওয়াসিমকে ফেলে দেন এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ-পলিথিন পেঁচিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখেন।

নিহত ওয়াসিম রনীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘প্রায় পাঁচ মাস আগে বাবার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন ওই লোক (মাসুম)। বাবা বলতেন মাসুম তার বন্ধু। গত দু–তিন মাস যাবৎ টাকা চাইলেও দিচ্ছিলেন না ওই লোক। সেদিন বাবা চেক আনতে গিয়েছিলেন। মাকে বলে গিয়েছিলেন। আমি বিচার চাই।’

এর আগে, ব্যবসায়ী ওয়াসিম রনি নিখোঁজ রয়েছেন জানিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্বজনরা। ওই জিডির তদন্তে নেমে রনির বন্ধু মাসুমকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাসুমের বাসার পেছনে মাটিতে বালু দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় রনির মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

অরল্যান্ডোয় ফোবানার ৪০তম সম্মেলন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পাওনা ৩ লাখ টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী বন্ধুকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন মাসুম 

আপডেটের সময় : ১০:২২:১৪ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিম ওরফে রনীর (৪৭) মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় তার বন্ধু মাসুম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নিহত ওয়াসিম লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর শনির আখড়ায় থাকতেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নুসরাত জাহান শুক্রবার লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার উপ-পরিদর্শক বেলায়েত হোসাইন মাসুমকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তা রেকর্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ম্যাজিস্ট্রেট তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেলায়েত হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। ভুক্তভোগী ও আসামি দুজন একই এলাকায় বড় হয়েছেন। তারা বন্ধু ছিলেন, একই স্কুলে পড়েছেন। তারা পৃথক ব্যবসা করতেন। ওয়াসিম জমি বেচাকেনায় মধ্যস্থতা করতেন। আর মাসুম ইমিটেশন গয়নার ব্যবসা করতেন।

এর আগে, গতকাল ভোরে পুরান ঢাকার লালবাগের বি সি দাস স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে তার হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন মোড়ানো ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে ওই ভবনে তার ইমিটেশন তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় পুলিশ।

লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী ওয়াসিম রনী তার বন্ধু মাসুমের কাছে ধার দেওয়া পাওনা তিন লাখ টাকার চেক আনতে যান। কিন্তু আসামি মাসুম ওয়াসিমকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে ওপরে বালি ও সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে গুম করার চেষ্টা করেন।’

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম স্বীকার করেন, ওয়াসিম তার কাছে তিন লাখ টাকা পেতেন এবং সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার টাকা দেওয়ার কথা বলে ওয়াসিমকে কারখানায় ডেকে নেন মাসুম। সেখানে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মাসুম প্রথমে মাথায় আঘাত করে ওয়াসিমকে ফেলে দেন এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ-পলিথিন পেঁচিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখেন।

নিহত ওয়াসিম রনীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘প্রায় পাঁচ মাস আগে বাবার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন ওই লোক (মাসুম)। বাবা বলতেন মাসুম তার বন্ধু। গত দু–তিন মাস যাবৎ টাকা চাইলেও দিচ্ছিলেন না ওই লোক। সেদিন বাবা চেক আনতে গিয়েছিলেন। মাকে বলে গিয়েছিলেন। আমি বিচার চাই।’

এর আগে, ব্যবসায়ী ওয়াসিম রনি নিখোঁজ রয়েছেন জানিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্বজনরা। ওই জিডির তদন্তে নেমে রনির বন্ধু মাসুমকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাসুমের বাসার পেছনে মাটিতে বালু দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় রনির মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

Share this news as a Photo Card