নিউইয়র্ক ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বাড়াতে চীনের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • আপডেটের সময় : ১২:৪১:২৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

কুনমিং ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করার প্রস্তাবিত করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি শি জিনপিংকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশেষ করে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক খাতগুলোতে চীনের বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

চীনের মন্ত্রী লিউ হাইশিং সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের অর্থায়ন ও নির্মাণে সহযোগিতার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীনের অব্যাহত সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি। জবাবে এ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন চীনা মন্ত্রী।

চলমান জ্বালানি সংকটে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্যও ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই ঐতিহাসিক সফরগুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

লিউ হাইশিং বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় এ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চীনে তাঁর সর্বশেষ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সফররত মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে। এসব বৈঠক পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ওই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় এবং সফরকালে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা-সংক্রান্ত দলিল স্বাক্ষরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি লিউ হাইশিংয়ের সুস্বাস্থ্য ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন।

এর আগে বঙ্গভবনে পৌঁছালে চীনা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি তাঁর সচিবদের সঙ্গে মন্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দেন।

চীনা প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউইন এবং সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমন্বয়) সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি চীনা মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বঙ্গভবন পরিদর্শন করান। এ সময় চীনা মন্ত্রীর বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত লিউ শুকিংয়ের ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের ভিডিওচিত্র এবং তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতির চীন সফরের আলোকচিত্র দেখানো হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, জন বিভাগের সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী

নির্বাচনে হেরে ট্রাম্প বললেন, আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না

০৪ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বাড়াতে চীনের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেটের সময় : ১২:৪১:২৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

কুনমিং ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করার প্রস্তাবিত করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি শি জিনপিংকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশেষ করে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক খাতগুলোতে চীনের বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

চীনের মন্ত্রী লিউ হাইশিং সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের অর্থায়ন ও নির্মাণে সহযোগিতার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীনের অব্যাহত সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি। জবাবে এ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন চীনা মন্ত্রী।

চলমান জ্বালানি সংকটে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্যও ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই ঐতিহাসিক সফরগুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

লিউ হাইশিং বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় এ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চীনে তাঁর সর্বশেষ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সফররত মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে। এসব বৈঠক পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ওই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় এবং সফরকালে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা-সংক্রান্ত দলিল স্বাক্ষরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি লিউ হাইশিংয়ের সুস্বাস্থ্য ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন।

এর আগে বঙ্গভবনে পৌঁছালে চীনা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি তাঁর সচিবদের সঙ্গে মন্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দেন।

চীনা প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউইন এবং সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমন্বয়) সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি চীনা মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বঙ্গভবন পরিদর্শন করান। এ সময় চীনা মন্ত্রীর বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত লিউ শুকিংয়ের ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের ভিডিওচিত্র এবং তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতির চীন সফরের আলোকচিত্র দেখানো হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, জন বিভাগের সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card