দীর্ঘ প্রায় এক বছরের অনিশ্চয়তার পর আবারও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হওয়ার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ভারতের বাংলাদেশ সফর আয়োজনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য সূচি চূড়ান্ত করার কাজ করছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সফরের জন্য সময় বের করতে বিসিসিআই দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নির্ধারিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে সিরিজটি আয়োজনের আগে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। সেই অনুমোদন মিললেই সফরের সূচি চূড়ান্ত হবে। কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে গত বছর ভারত বাংলাদেশ সফরে আসেনি। এরপর আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে বিতর্কের জেরে দুই বোর্ডের সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় শেষ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে দল পাঠায়নি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
তবে নতুন করে বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে বিসিবি ইতোমধ্যে ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব আন্তর্জাতিক ভেন্যু ফাঁকা রেখেছে। বিসিসিআইয়ের সুবিধা অনুযায়ী সূচি নির্ধারণের জন্য একাধিক বিকল্পও প্রস্তুত রেখেছে তারা। ভারতের শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হওয়ার কথা ২৭ আগস্ট। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি পিছিয়ে গেলে সেপ্টেম্বরে প্রায় দুই সপ্তাহের একটি ফাঁকা সময় তৈরি হবে, যা বাংলাদেশ সফরের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।বিসিসিআইয়ের সূত্র দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিসিবি চাইলে একটি ভেন্যুতে তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং অন্য ভেন্যুতে তিনটি ওয়ানডে আয়োজন করতে পারে। যেখানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ভেন্যু তালিকায় রয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে পুরো সফর একটি ভেন্যুতেও আয়োজন করতে আপত্তি নেই বিসিবির। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত আইসিসির বৈঠকের ফাঁকে দুই বোর্ডের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে সফরটি এখনো ভারত সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান সিরিজ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বিলম্বিত হওয়ার কারণও বাংলাদেশ সফরের সম্ভাব্য সূচি বলে জানা গেছে। বিসিসিআই ইতোমধ্যে নির্বাচকদের এ বিষয়ে অবহিত করেছে এবং আফগানিস্তান সিরিজের প্রস্তুতিও আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে মে মাসে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইপিএলের চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল বলেছিলেন, অতীতের তিক্ততা পেছনে ফেলে বিসিসিআই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চায় এবং সব সদস্য বোর্ডের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য।


























