নিউইয়র্ক ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোজিনহার পরিবারকে ফাইনাল ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মেসি

  • আপডেটের সময় : ০৮:০৯:৩০ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় কেপ ভার্দে। তবে দুর্দান্ত পারফর্ম করে সবার নজর কাড়েন দলটির গোলরক্ষক ভোজিনহা। তার এই লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ হয়ে ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যের জন্য ফাইনালের বিনা মূল্যের টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। পাশাপাশি ম্যাচ শেষে এই গোলরক্ষককে নিজের জার্সিও উপহার দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোল ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্য যেন গ্যালারিতে বসে ফাইনাল দেখতে পারেন, সে জন্য নিজের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মেসি। অবশ্য স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ওই আসরের শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। তবে মেসির এমন আচরণে মুগ্ধ ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত কথোপকথনটি আজীবন মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মেসির কাছে তার জার্সিটি চেয়েছিলেন এই আফ্রিকান গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতা সেরে টানেলে গিয়ে সেই কথা রাখেন মেসি।

প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই দারুণ চমক দেখায় কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অপরাজিত থেকেই নকআউটে ওঠে তারা। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ নৈপুণ্য দেখান ভোজিনহা; করেন মোট ১৮টি সেভ। ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটার তথ্যমতে, বিশ্বকাপে ৪০ বা তার বেশি বয়সী গোলরক্ষকদের মধ্যে এক আসরে সবচেয়ে বেশি সেভের রেকর্ডে তিনি তৃতীয় স্থানে আছেন। তার সামনে আছেন কেবল ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ২৮টি) ও ইতালির দিনো জফ (১৯৮২ সালে ২৭টি)।

ম্যাচ শেষে মেসির সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা জানিয়ে চিলির সংবাদমাধ্যম লা তেরসেরাকে ভোজিনহা বলেন, ‘খেলার পর আমি মেসির কাছে যাই। সে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, তুমি অসাধারণ। তোমার জন্য তোমার দেশের মানুষের গর্ব করা উচিত। লিওনেল মেসির মতো একজনের কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার জন্য অবিশ্বাস্য।’

জার্সি বদলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলি, তুমিই সেরা। এরপর আমরা জার্সি বদল করতে পারি কি না জানতে চাই। তখন লিও জানায়, সাক্ষাৎকার পর্ব শেষে টানেলে সে আমাকে জার্সিটি দেবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে প্রবল চাপে ফেলেছিল কেপ ভার্দে। ২৯ মিনিটে মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও ৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের গোলে সমতায় ফেরে তারা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনাকে ফের এগিয়ে নিলেও ১০৩ মিনিটে সিদনি লোপেস কাবরালের দর্শনীয় গোলে আবারও সমতা (২-২) আনে কেপ ভার্দে।

আর্জেন্টিনাকে রুখে দেওয়ার পথে একাধিকবার মেসির দুর্দান্ত সব আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। তবে ১১১ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনিয় বর্জেসের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। শেষ মুহূর্তে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দুর্দান্ত একটি সেভ না করলে ম্যাচটি টাইব্রেকারেও গড়াতে পারত।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

চীনের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ডেলিভারিম্যান কবি ওয়াং জিবিং 

মার্কিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

২৫ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভোজিনহার পরিবারকে ফাইনাল ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মেসি

আপডেটের সময় : ০৮:০৯:৩০ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় কেপ ভার্দে। তবে দুর্দান্ত পারফর্ম করে সবার নজর কাড়েন দলটির গোলরক্ষক ভোজিনহা। তার এই লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ হয়ে ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যের জন্য ফাইনালের বিনা মূল্যের টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। পাশাপাশি ম্যাচ শেষে এই গোলরক্ষককে নিজের জার্সিও উপহার দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোল ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্য যেন গ্যালারিতে বসে ফাইনাল দেখতে পারেন, সে জন্য নিজের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মেসি। অবশ্য স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ওই আসরের শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। তবে মেসির এমন আচরণে মুগ্ধ ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত কথোপকথনটি আজীবন মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মেসির কাছে তার জার্সিটি চেয়েছিলেন এই আফ্রিকান গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতা সেরে টানেলে গিয়ে সেই কথা রাখেন মেসি।

প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই দারুণ চমক দেখায় কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অপরাজিত থেকেই নকআউটে ওঠে তারা। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ নৈপুণ্য দেখান ভোজিনহা; করেন মোট ১৮টি সেভ। ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটার তথ্যমতে, বিশ্বকাপে ৪০ বা তার বেশি বয়সী গোলরক্ষকদের মধ্যে এক আসরে সবচেয়ে বেশি সেভের রেকর্ডে তিনি তৃতীয় স্থানে আছেন। তার সামনে আছেন কেবল ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ২৮টি) ও ইতালির দিনো জফ (১৯৮২ সালে ২৭টি)।

ম্যাচ শেষে মেসির সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা জানিয়ে চিলির সংবাদমাধ্যম লা তেরসেরাকে ভোজিনহা বলেন, ‘খেলার পর আমি মেসির কাছে যাই। সে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, তুমি অসাধারণ। তোমার জন্য তোমার দেশের মানুষের গর্ব করা উচিত। লিওনেল মেসির মতো একজনের কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার জন্য অবিশ্বাস্য।’

জার্সি বদলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলি, তুমিই সেরা। এরপর আমরা জার্সি বদল করতে পারি কি না জানতে চাই। তখন লিও জানায়, সাক্ষাৎকার পর্ব শেষে টানেলে সে আমাকে জার্সিটি দেবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে প্রবল চাপে ফেলেছিল কেপ ভার্দে। ২৯ মিনিটে মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও ৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের গোলে সমতায় ফেরে তারা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনাকে ফের এগিয়ে নিলেও ১০৩ মিনিটে সিদনি লোপেস কাবরালের দর্শনীয় গোলে আবারও সমতা (২-২) আনে কেপ ভার্দে।

আর্জেন্টিনাকে রুখে দেওয়ার পথে একাধিকবার মেসির দুর্দান্ত সব আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। তবে ১১১ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনিয় বর্জেসের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। শেষ মুহূর্তে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দুর্দান্ত একটি সেভ না করলে ম্যাচটি টাইব্রেকারেও গড়াতে পারত।

Share this news as a Photo Card