নিউইয়র্ক ০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

  • আপডেটের সময় : ০৫:০০:৫৩ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও ইরানের ওপর অব্যহত মার্কিন হামলার কড়া সমালোচনা করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন’ এবং ‘ধমক, জবরদস্তিই’ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূল উপাদান। শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির পক্ষে পাঠ করা এক বিশেষ লিখিত বিবৃতিতে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তির বিপরীতে ‘গ্রেট শয়তানের’ বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ,এবং ধমক, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতাই হলো আমেরিকান মতবাদ ও পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য উপাদান।

যুক্তরাষ্ট্র তার প্রকৃত মুখ উন্মোচন করেছে; যা তাদের ‘প্রতারণা, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বস্ততা’ প্রকাশ করেছে বলে জানান খামেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান এবং এর আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ পেতে হবে। 

ইরানের জনগণ ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (রেজিস্ট্যান্স ফন্ট) যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না বলে দাবি করেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণ ও রাষ্ট্রের সব স্তরের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অপরাধী ও ধূর্ত মার্কিন শত্রুর বিরুদ্ধে ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা।’

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক সময়ে বিজয় অর্জনের চাবিকাঠি হলো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং বিভেদ ও মতবিরোধ এড়িয়ে চলা।’

এর আগে, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করার পরিস্থিতি তৈরি করা। সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরান এবং ওয়াশিংটন একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করার পর থেকে চুক্তিটিকে ‘বাতিল’ বলে ঘোষণা করেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইরান সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে গেলে কিছুই যায় আসে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিউইয়র্কের এশিয়ান কমিউনিটির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন সিটি কাউন্সিল স্পিকার

১৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

আপডেটের সময় : ০৫:০০:৫৩ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও ইরানের ওপর অব্যহত মার্কিন হামলার কড়া সমালোচনা করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন’ এবং ‘ধমক, জবরদস্তিই’ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূল উপাদান। শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির পক্ষে পাঠ করা এক বিশেষ লিখিত বিবৃতিতে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তির বিপরীতে ‘গ্রেট শয়তানের’ বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ,এবং ধমক, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতাই হলো আমেরিকান মতবাদ ও পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য উপাদান।

যুক্তরাষ্ট্র তার প্রকৃত মুখ উন্মোচন করেছে; যা তাদের ‘প্রতারণা, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বস্ততা’ প্রকাশ করেছে বলে জানান খামেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান এবং এর আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ পেতে হবে। 

ইরানের জনগণ ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (রেজিস্ট্যান্স ফন্ট) যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না বলে দাবি করেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণ ও রাষ্ট্রের সব স্তরের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অপরাধী ও ধূর্ত মার্কিন শত্রুর বিরুদ্ধে ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা।’

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক সময়ে বিজয় অর্জনের চাবিকাঠি হলো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং বিভেদ ও মতবিরোধ এড়িয়ে চলা।’

এর আগে, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করার পরিস্থিতি তৈরি করা। সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরান এবং ওয়াশিংটন একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করার পর থেকে চুক্তিটিকে ‘বাতিল’ বলে ঘোষণা করেছে।

Share this news as a Photo Card