নিউইয়র্ক ০৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৫:৪০ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবকে নিজেদের দেশের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি পারমাণবিক চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষর না পাওয়ায় চুক্তিটি এখন আটকে আছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

২০১৫ সালের অক্টোবর মাসেই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছিল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে ট্রাম্প এখনও সই করতে দেরি করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসে দুই দলেরই তীব্র বিরোধিতার আশঙ্কাও রয়েছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত দেশগুলো বেসামরিক কাজের জন্য নিজেরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার না করে অন্য দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এ চুক্তির সুবাদে সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ খুলে যেতে পারে। 

এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক বোমা বানায় তাহলে সৌদি আরবও বানাবে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চুক্তিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর কঠোর তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সংস্থাটি চাইলেও সৌদির সন্দেহজনক পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারবে না। পুরো বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় থাকবে।

তুলনায় ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই প্রযুক্তির লোভ সংবরণ করে আন্তর্জাতিক কঠোর নিয়ম মেনে চুক্তি করেছিল, যা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নামে পরিচিত।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সৌদির মতো দেশের হাতে এই স্পর্শকাতর প্রযুক্তি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তারা যেকোনো সময় এসব কেন্দ্র নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, এতে আমেরিকার পারমাণবিক শিল্পের বড় বাণিজ্যিক লাভ হবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি না করলে সৌদি আরব রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে আরও সহজ শর্তে এ প্রযুক্তি নিয়ে নিতে পারে। তবে বিরোধীরা সতর্ক করেছেন, এভাবে নিয়ম শিথিল করলে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইরান সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে গেলে কিছুই যায় আসে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিউইয়র্কের এশিয়ান কমিউনিটির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন সিটি কাউন্সিল স্পিকার

১৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটের সময় : ০৫:০৫:৪০ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সৌদি আরবকে নিজেদের দেশের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি পারমাণবিক চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষর না পাওয়ায় চুক্তিটি এখন আটকে আছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

২০১৫ সালের অক্টোবর মাসেই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছিল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে ট্রাম্প এখনও সই করতে দেরি করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসে দুই দলেরই তীব্র বিরোধিতার আশঙ্কাও রয়েছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত দেশগুলো বেসামরিক কাজের জন্য নিজেরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার না করে অন্য দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এ চুক্তির সুবাদে সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ খুলে যেতে পারে। 

এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক বোমা বানায় তাহলে সৌদি আরবও বানাবে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চুক্তিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর কঠোর তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সংস্থাটি চাইলেও সৌদির সন্দেহজনক পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারবে না। পুরো বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় থাকবে।

তুলনায় ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই প্রযুক্তির লোভ সংবরণ করে আন্তর্জাতিক কঠোর নিয়ম মেনে চুক্তি করেছিল, যা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নামে পরিচিত।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সৌদির মতো দেশের হাতে এই স্পর্শকাতর প্রযুক্তি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তারা যেকোনো সময় এসব কেন্দ্র নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, এতে আমেরিকার পারমাণবিক শিল্পের বড় বাণিজ্যিক লাভ হবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি না করলে সৌদি আরব রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে আরও সহজ শর্তে এ প্রযুক্তি নিয়ে নিতে পারে। তবে বিরোধীরা সতর্ক করেছেন, এভাবে নিয়ম শিথিল করলে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।

Share this news as a Photo Card