নিউইয়র্ক ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘যে রুম নিয়ে অভিযোগ, সে রুমে ছিলেনই না জেমস’

  • আপডেটের সময় : ০৭:০২:০৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নগরবাউল জেমসের ইতালির রোমের কনসার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। প্রতারণা, অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। কনসার্ট শেষে হোটেলের কক্ষ নোংরা করে রেখে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে জেমস ও তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিচ্ছন্নতার জন্য ন্যূনতম ২০০ ইউরো পরিশোধের কথা জানিয়েছে।

তবে অভিযোগটি জেমসের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেছেন তার মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন। গতকাল দুপুরে গনমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন যে রুম নিয়ে অভিযোগ, সে রুমে ছিলেনই না নগরবাউল জেমস। গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিতে জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। চেক-আউটের পর ওই কক্ষের কয়েকটি ছবি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আয়োজক প্রতিনিধির কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব বার্তায় হোটেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, কক্ষটি অপরিষ্কার অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের না জানিয়েই সেটি ছেড়ে যাওয়া হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, কক্ষের মেঝেতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পানির বোতল ও বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে আছে। ডাইনিং টেবিলে রয়েছে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট। রান্নাঘরের সিঙ্কেও নোংরা থালা-বাসনের পাশাপাশি কাঁচা ডিম পড়ে থাকতে দেখা যায়।

হোটেল কর্তৃপক্ষ আয়োজক প্রতিনিধিকে পাঠানো বার্তায় কক্ষটির অবস্থা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হোটেলটির সুবিধা নিতে হলে চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য অন্তত ২০০ ইউরো দিতে হবে বলে জানানো হয়। বিষয়টি প্রসঙ্গে জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন বলেন, ‘আমাদের মোট চারটি কক্ষ ছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে, আমি ছিলাম ২৪৬ নম্বর কক্ষে। হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫৪৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন দলের অন্য এক মিউজিশিয়ান। তাই একজনের কক্ষের অবস্থার দায় জেমসের ওপর দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা। তাকে নিয়ে এই ধরনের মিথ্যাচার কারও কাছেই কাম্য নয়।’ আরও অভিযোগ উঠে হোটেলের নিয়ম না মেনে কিংবা রিসিপশনে যোগাযোগ না করেই কক্ষ ছেড়েছেন জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। বিষয়টি অস্বীকার করেন রবিন। তিনি বলেন, ‘এতজন মানুষ, ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে কি পালিয়ে আসা যায়? এগুলো মিথ্যা অভিযোগ, আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্বে বিষয়টি নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমরা সবার সামনে দিয়ে বের হয়ে ভেনিস এসেছি।’

এদিকে এই কনসার্ট ঘিরে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ইতালির আয়োজক হোসাইন আহমেদ। তার অভিযোগ, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে হিসাবের জটিলতা তৈরি হয়েছে। রবিন এসব অর্থের হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পুলিশও সেখানে ডাকা হয় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে রবিন বলেন, ‘সব কনসার্টের মতো এ কনসার্টেও আমাদের সঙ্গে আয়োজকদের একটি চুক্তি হয়েছে। যদি চুক্তির কোনো কিছু না মেনে থাকি, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমরা তো ইতালির বাইরে যাইনি, ভেনিসেই আছি। আমরা যদি চুক্তি ভঙ্গ করতাম, অবশ্যই পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিত। এসব করে বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশকে ছোট করছেন তারা।’ সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া পোস্টের একাধিক ছবিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা। তবে এটি আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বলেই মনে করছেন এই তারকার ভক্ত-অনুরাগীরা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘যে রুম নিয়ে অভিযোগ, সে রুমে ছিলেনই না জেমস’

আপডেটের সময় : ০৭:০২:০৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

নগরবাউল জেমসের ইতালির রোমের কনসার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। প্রতারণা, অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। কনসার্ট শেষে হোটেলের কক্ষ নোংরা করে রেখে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে জেমস ও তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিচ্ছন্নতার জন্য ন্যূনতম ২০০ ইউরো পরিশোধের কথা জানিয়েছে।

তবে অভিযোগটি জেমসের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেছেন তার মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন। গতকাল দুপুরে গনমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন যে রুম নিয়ে অভিযোগ, সে রুমে ছিলেনই না নগরবাউল জেমস। গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিতে জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। চেক-আউটের পর ওই কক্ষের কয়েকটি ছবি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আয়োজক প্রতিনিধির কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব বার্তায় হোটেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, কক্ষটি অপরিষ্কার অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের না জানিয়েই সেটি ছেড়ে যাওয়া হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, কক্ষের মেঝেতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পানির বোতল ও বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে আছে। ডাইনিং টেবিলে রয়েছে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট। রান্নাঘরের সিঙ্কেও নোংরা থালা-বাসনের পাশাপাশি কাঁচা ডিম পড়ে থাকতে দেখা যায়।

হোটেল কর্তৃপক্ষ আয়োজক প্রতিনিধিকে পাঠানো বার্তায় কক্ষটির অবস্থা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হোটেলটির সুবিধা নিতে হলে চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য অন্তত ২০০ ইউরো দিতে হবে বলে জানানো হয়। বিষয়টি প্রসঙ্গে জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন বলেন, ‘আমাদের মোট চারটি কক্ষ ছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে, আমি ছিলাম ২৪৬ নম্বর কক্ষে। হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫৪৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন দলের অন্য এক মিউজিশিয়ান। তাই একজনের কক্ষের অবস্থার দায় জেমসের ওপর দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা। তাকে নিয়ে এই ধরনের মিথ্যাচার কারও কাছেই কাম্য নয়।’ আরও অভিযোগ উঠে হোটেলের নিয়ম না মেনে কিংবা রিসিপশনে যোগাযোগ না করেই কক্ষ ছেড়েছেন জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। বিষয়টি অস্বীকার করেন রবিন। তিনি বলেন, ‘এতজন মানুষ, ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে কি পালিয়ে আসা যায়? এগুলো মিথ্যা অভিযোগ, আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্বে বিষয়টি নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমরা সবার সামনে দিয়ে বের হয়ে ভেনিস এসেছি।’

এদিকে এই কনসার্ট ঘিরে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ইতালির আয়োজক হোসাইন আহমেদ। তার অভিযোগ, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে হিসাবের জটিলতা তৈরি হয়েছে। রবিন এসব অর্থের হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পুলিশও সেখানে ডাকা হয় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে রবিন বলেন, ‘সব কনসার্টের মতো এ কনসার্টেও আমাদের সঙ্গে আয়োজকদের একটি চুক্তি হয়েছে। যদি চুক্তির কোনো কিছু না মেনে থাকি, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমরা তো ইতালির বাইরে যাইনি, ভেনিসেই আছি। আমরা যদি চুক্তি ভঙ্গ করতাম, অবশ্যই পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিত। এসব করে বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশকে ছোট করছেন তারা।’ সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া পোস্টের একাধিক ছবিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা। তবে এটি আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বলেই মনে করছেন এই তারকার ভক্ত-অনুরাগীরা।

Share this news as a Photo Card