নিউইয়র্ক ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ে আলু নিয়ে শঙ্কা

  • আপডেটের সময় : ০৯:৫৪:০১ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারীর হিমাগার মালিক ও আলুচাষিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে জেলার ১১টি হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

হিমাগার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে হিমাগারের শীতলকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের মাধ্যমে মেশিন চালু রাখা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে পরিচালনা ব্যয় অন্যদিকে বাড়ছে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি।

শাওন হিমাগারের ম্যানেজার নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের মেশিনগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। পরে আবার শুরু থেকে মেশিন চালু করতে হয়। এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও শ্রম খরচ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে এই ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করা কৃষকরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। আগামী মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করা আলু নষ্ট হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

নীলফামারীর সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ীর কৃষক সোলেমান আলী বলেন, আগামী মৌসুমে জমিতে রোপণের জন্য হিমাগারে বীজ আলু রেখেছি। কিন্তু বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আছি। বীজ আলু নষ্ট হয়ে গেলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

হিমাগারে আসা এক ব্যবসায়ী ইমরান বলেন, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। হিমাগার মালিকরা জেনারেটর চালিয়ে চেষ্টা করছেন, কিন্তু সব মেশিন একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয় না। আলু নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে।

উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেশিন বেশি সময় চালাতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে এক ঘণ্টা সময় লাগলে ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে গেলে আবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়।

জেলার সৈয়দপুরে তিনটি কোল্ড স্টোরেজে এলাকার ও বাইরের কৃষকরা সংরক্ষণ করে চিন্তায় পড়েছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ও তীব্র গরমে আলু নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ঈসমাইল বীজ হিমাগার, সাজেদা ও নর্দান কোল্ড স্টোরেজ বীজ ও বিক্রির জন্য আলু রেখেছেন কৃষক ও পাইকাররা। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) সৈয়দপুরের আবাসিক প্রকৌশলী মো. আলিমুল ইসলাম সেলিম জানান, চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ মিলছে না। যে কারণে কারখানা ও হিমাগারগুলোতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনার জন্যে চেষ্টা চলছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আজ আইফোন ১৮ উন্মোচন করবে অ্যাপল, আসছে নতুন ওয়াচ-এয়ারপডসও

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

লোডশেডিংয়ে আলু নিয়ে শঙ্কা

আপডেটের সময় : ০৯:৫৪:০১ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারীর হিমাগার মালিক ও আলুচাষিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে জেলার ১১টি হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

হিমাগার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে হিমাগারের শীতলকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের মাধ্যমে মেশিন চালু রাখা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে পরিচালনা ব্যয় অন্যদিকে বাড়ছে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি।

শাওন হিমাগারের ম্যানেজার নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের মেশিনগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। পরে আবার শুরু থেকে মেশিন চালু করতে হয়। এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও শ্রম খরচ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে এই ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করা কৃষকরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। আগামী মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করা আলু নষ্ট হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

নীলফামারীর সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ীর কৃষক সোলেমান আলী বলেন, আগামী মৌসুমে জমিতে রোপণের জন্য হিমাগারে বীজ আলু রেখেছি। কিন্তু বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আছি। বীজ আলু নষ্ট হয়ে গেলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

হিমাগারে আসা এক ব্যবসায়ী ইমরান বলেন, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। হিমাগার মালিকরা জেনারেটর চালিয়ে চেষ্টা করছেন, কিন্তু সব মেশিন একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয় না। আলু নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে।

উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেশিন বেশি সময় চালাতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে এক ঘণ্টা সময় লাগলে ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে গেলে আবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়।

জেলার সৈয়দপুরে তিনটি কোল্ড স্টোরেজে এলাকার ও বাইরের কৃষকরা সংরক্ষণ করে চিন্তায় পড়েছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ও তীব্র গরমে আলু নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ঈসমাইল বীজ হিমাগার, সাজেদা ও নর্দান কোল্ড স্টোরেজ বীজ ও বিক্রির জন্য আলু রেখেছেন কৃষক ও পাইকাররা। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) সৈয়দপুরের আবাসিক প্রকৌশলী মো. আলিমুল ইসলাম সেলিম জানান, চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ মিলছে না। যে কারণে কারখানা ও হিমাগারগুলোতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনার জন্যে চেষ্টা চলছে।

Share this news as a Photo Card