নিউইয়র্ক ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজের কাছে ডুবল আরও ২ জাহাজ

  • আপডেটের সময় : ১২:৫৩:০৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে গেছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ। জাহাজ দুটির একটি কনটেইনারবাহী এবং অন্যটি শুকনো পণ্যবাহী। এ ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। অপর জাহাজের ২১ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটির একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অন্যটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) জানায়, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় জিএফএস প্রাইড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে এটি ডুবে যায়। জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কেপ দাও। পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে যায়। হামলার পর জাহাজটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হলেও এ ঘটনায় একজন নিহত হন।

আইএমওর জাহাজ দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাও হলো ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের এমপিএ। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই ঝুঁকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কনটেইনারবাহী ও শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের বিমানকর্মীদের নিয়ে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স

১৫ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হরমুজের কাছে ডুবল আরও ২ জাহাজ

আপডেটের সময় : ১২:৫৩:০৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে গেছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ। জাহাজ দুটির একটি কনটেইনারবাহী এবং অন্যটি শুকনো পণ্যবাহী। এ ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। অপর জাহাজের ২১ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটির একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অন্যটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) জানায়, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় জিএফএস প্রাইড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে এটি ডুবে যায়। জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কেপ দাও। পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে যায়। হামলার পর জাহাজটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হলেও এ ঘটনায় একজন নিহত হন।

আইএমওর জাহাজ দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাও হলো ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের এমপিএ। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই ঝুঁকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কনটেইনারবাহী ও শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card