নিউইয়র্ক ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন, এটিএমে মিলবে নগদ টাকা

  • আপডেটের সময় : ১২:৫৯:০৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ফলে ব্যাংকটির আমানতকারীরা চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি ও আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে গভর্নর আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং ব্যাংকের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। সব আমানতকারী যাতে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেও তিনি নির্দেশ দেন।

ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকটিতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঋণ ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান, মো. কবির আহমাদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর ব্যাংকটির ওপর থেকে সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ সরে যায়। বর্তমানে মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ ও আর্মানা গ্রুপের পরিবারের সদস্যরা ব্যাংকটির পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।

তবে আগের অনিয়মের প্রভাব, উচ্চ খেলাপি ঋণ, ধারাবাহিক লোকসান ও তারল্যসংকটের কারণে ব্যাংকটি এখনো সংকটে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ খেলাপি, যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর লোকসান করছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। চলতি বছরও ব্যাংকটি লোকসানের মধ্যে রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ১৫ অক্টোবর থেকে সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যাতে ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকেরা চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন, এটিএমে মিলবে নগদ টাকা

আপডেটের সময় : ১২:৫৯:০৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ফলে ব্যাংকটির আমানতকারীরা চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি ও আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে গভর্নর আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং ব্যাংকের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। সব আমানতকারী যাতে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেও তিনি নির্দেশ দেন।

ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকটিতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঋণ ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান, মো. কবির আহমাদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর ব্যাংকটির ওপর থেকে সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ সরে যায়। বর্তমানে মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ ও আর্মানা গ্রুপের পরিবারের সদস্যরা ব্যাংকটির পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।

তবে আগের অনিয়মের প্রভাব, উচ্চ খেলাপি ঋণ, ধারাবাহিক লোকসান ও তারল্যসংকটের কারণে ব্যাংকটি এখনো সংকটে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ খেলাপি, যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর লোকসান করছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। চলতি বছরও ব্যাংকটি লোকসানের মধ্যে রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ১৫ অক্টোবর থেকে সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যাতে ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকেরা চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারেন।

Share this news as a Photo Card