নিউইয়র্ক ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০০ মিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা, আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর

  • আপডেটের সময় : ১২:৫৯:৪৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রানওয়ে ও টার্মিনালের পর্যাপ্ত সুবিধা থাকার পরেও এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্ভাবনা। এবার সেই বিমানবন্দরকেই আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে পিডিপিপি তৈরির পাশাপাশি ১৮ মাস মেয়াদি একটি ফার্স্ট ট্রেক প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনাও করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

খসড়া অনুযায়ী প্রকল্পের প্রথম ধাপে রয়েছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনা, ট্রান্সফার যাত্রী এবং বাড়তি এয়ার কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতাসহ একটি ন্যূনতম আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এর মধ্যে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে, বাকি ৭৫ মিলিয়ন ডলার দেবে সরকার ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, এখান থেকে আমরা কার্গো পরিবহন করব, আমরা যাত্রী পরিবহন করব। এর জন্য আমাদের যে বিশাল বড় জায়গার প্রয়োজন, এই মুহূর্তে সিভিল এভিয়েশনের হাতে সেই পরিমাণ জায়গা নেই।

তিনি আরও বলেন, মূলত আমরা যেটা চিন্তা করছি, সেটা হচ্ছে টেকনিক্যাল ল্যান্ডিং। এখানে অনেক এয়ারক্রাফট আছে, যারা দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য এক দেশ থেকে উড্ডয়ন করে কলকাতায় অবতরণ করে। সেখানে অবতরণের পর তারা রিফিল করে এবং সেখানকার ক্যাটারিং সার্ভিস থেকে প্রয়োজনীয় সেবা নেয়। তাই যাত্রী পরিবহনের চেয়ে এই ধরনের টেকনিক্যাল ল্যান্ডিংয়ের বিষয়টি আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজে ধরতে পারা সম্ভব।

কর্তৃপক্ষের আশা, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, এই বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৫ মিলিয়ন থেকে ১০ মিলিয়নে উন্নীত হবে। তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এই বিমানবন্দরকে টেকনিক্যাল হাবে পরিণত করতে পারলে বাড়বে সরকারের আয়।

এদিকে চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মো. আসিফ চৌধুরী জানান, আমরা ইস্টার্নের যেসব দেশ, বিশেষ করে জাপান, কোরিয়া ও ওই সমস্ত দেশের বিমানগুলো যখন আমাদের ইউরোপ বা ফার ইস্টের দিকে যাবে, তখন যদি আমরা চট্টগ্রামকে ফুয়েল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আর্থিকভাবে চট্টগ্রাম এবং আমাদের দেশ উপকৃত হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত কার্গো না পাওয়াতে এমনিতেই এয়ারলাইন্সগুলো এই সেবা থেকে সরে এসেছে। এমন বাস্তবতায় কার্গো হ্যান্ডলিং বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে সন্দিহান তারা।

তবে সবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. মাহবুব রানা বলেন, এখন আমরা যদি ইউরোপে রপ্তানি করতে চাই, বিশেষ করে ফ্রেশ শাকসবজি ও ফলমূল, তাহলে আমরা তা করতে পারি না। কারণ, চট্টগ্রাম থেকে এসব পণ্য রপ্তানির জন্য কোনো পরিবহন সুবিধা নেই।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে সত্যিকারের আঞ্চলিক হাবে পরিণত করতে হলে যাত্রী আর কার্গোর পর্যাপ্ত চাহিদা তৈরি করে এয়ারলাইনসগুলোকে আকৃষ্ট করতে হবে, এমনটিই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৩০০ মিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা, আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর

আপডেটের সময় : ১২:৫৯:৪৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রানওয়ে ও টার্মিনালের পর্যাপ্ত সুবিধা থাকার পরেও এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্ভাবনা। এবার সেই বিমানবন্দরকেই আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে পিডিপিপি তৈরির পাশাপাশি ১৮ মাস মেয়াদি একটি ফার্স্ট ট্রেক প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনাও করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

খসড়া অনুযায়ী প্রকল্পের প্রথম ধাপে রয়েছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনা, ট্রান্সফার যাত্রী এবং বাড়তি এয়ার কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতাসহ একটি ন্যূনতম আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এর মধ্যে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে, বাকি ৭৫ মিলিয়ন ডলার দেবে সরকার ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, এখান থেকে আমরা কার্গো পরিবহন করব, আমরা যাত্রী পরিবহন করব। এর জন্য আমাদের যে বিশাল বড় জায়গার প্রয়োজন, এই মুহূর্তে সিভিল এভিয়েশনের হাতে সেই পরিমাণ জায়গা নেই।

তিনি আরও বলেন, মূলত আমরা যেটা চিন্তা করছি, সেটা হচ্ছে টেকনিক্যাল ল্যান্ডিং। এখানে অনেক এয়ারক্রাফট আছে, যারা দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য এক দেশ থেকে উড্ডয়ন করে কলকাতায় অবতরণ করে। সেখানে অবতরণের পর তারা রিফিল করে এবং সেখানকার ক্যাটারিং সার্ভিস থেকে প্রয়োজনীয় সেবা নেয়। তাই যাত্রী পরিবহনের চেয়ে এই ধরনের টেকনিক্যাল ল্যান্ডিংয়ের বিষয়টি আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজে ধরতে পারা সম্ভব।

কর্তৃপক্ষের আশা, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, এই বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৫ মিলিয়ন থেকে ১০ মিলিয়নে উন্নীত হবে। তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এই বিমানবন্দরকে টেকনিক্যাল হাবে পরিণত করতে পারলে বাড়বে সরকারের আয়।

এদিকে চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মো. আসিফ চৌধুরী জানান, আমরা ইস্টার্নের যেসব দেশ, বিশেষ করে জাপান, কোরিয়া ও ওই সমস্ত দেশের বিমানগুলো যখন আমাদের ইউরোপ বা ফার ইস্টের দিকে যাবে, তখন যদি আমরা চট্টগ্রামকে ফুয়েল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আর্থিকভাবে চট্টগ্রাম এবং আমাদের দেশ উপকৃত হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত কার্গো না পাওয়াতে এমনিতেই এয়ারলাইন্সগুলো এই সেবা থেকে সরে এসেছে। এমন বাস্তবতায় কার্গো হ্যান্ডলিং বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে সন্দিহান তারা।

তবে সবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. মাহবুব রানা বলেন, এখন আমরা যদি ইউরোপে রপ্তানি করতে চাই, বিশেষ করে ফ্রেশ শাকসবজি ও ফলমূল, তাহলে আমরা তা করতে পারি না। কারণ, চট্টগ্রাম থেকে এসব পণ্য রপ্তানির জন্য কোনো পরিবহন সুবিধা নেই।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে সত্যিকারের আঞ্চলিক হাবে পরিণত করতে হলে যাত্রী আর কার্গোর পর্যাপ্ত চাহিদা তৈরি করে এয়ারলাইনসগুলোকে আকৃষ্ট করতে হবে, এমনটিই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ 

Share this news as a Photo Card