মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায় একটি মসজিদের ইমামের থাকার ঘরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আল-আকসা আকন বাড়ি জামে মসজিদের পাশের ওই ঘরে বিস্ফোরণে টিনের বেড়া উড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ইমাম আকাশ হাওলাদার গত পাঁচ দিন ধরে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফলে তিনি বর্তমানে মসজিদে নেই। ইমামের থাকার ঘরের চাবি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ মসজিদ কমিটির তিন সদস্যের কাছে ছিল বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হঠাৎ ওই ঘর থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘরের টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত ও উড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন মসজিদের সামনে জড়ো হন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘মসজিদের ইমামের ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমার আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।’
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইমামের থাকার ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘরের টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কেউ হতাহত হননি। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে।
১৭ দিনে তিন বিস্ফোরণ
এদিকে সর্বশেষ ঘটনাসহ গত ১৭ দিনে মাদারীপুরে তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমার বিস্ফোরণ হয়।
এরও আগে ১৫ আগস্ট কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মাদ্রাসাটির পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী আহত হয়।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও পরিত্যক্ত ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন এবং স্থানীয় বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার কিংবা সামাজিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।


























