নিউইয়র্ক ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ বিশ্বকাপে অসাধারণভাবে মিলে যাচ্ছে ম্যারাডোনার ৮ বছর পুরোনো সেই ভবিষ্যদ্বাণী

  • আপডেটের সময় : ০৬:৪৩:৩৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৩০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান আলোচনা নতুন করে সামনে এনেছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার কয়েক বছর আগের একটি মন্তব্য। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক বিরতি নিয়ে সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তার সেই বক্তব্য।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে নির্বাচনের পর সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছিলেন ম্যারাডোনা। সে সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল ধীরে ধীরে অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের দিকে যেতে পারে এবং এতে খেলাটির ঐতিহ্যগত আবেগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তখন তিনি রসিকতার সুরে বলেছিলেন, আমেরিকানরা ফুটবল খেলাটির প্রথাগত ৪৫ মিনিটের দুটি হাফের নিয়মও পরিবর্তন করে দিতে পারে। তারা হয়তো এটিকে ২৫ মিনিট করে ৪টি কোয়ার্টারে ভাগ করতে চাইবে, যাতে ম্যাচের মাঝে বিরতির সংখ্যা বাড়ানো যায় এবং টেলিভিশনে বেশি বেশি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে কোটি কোটি ডলার আয় করা সম্ভব হয়।

ম্যারাডোনার এই বক্তব্যকে তখন অনেকে অতি-আবেগীয় মন্তব্য বলে উড়িয়ে দিলেও, বর্তমান বিশ্বকাপের বাস্তব চিত্র ভিন্ন কিছু বলছে না। আমেরিকার তীব্র গরম ও আর্দ্রতার অজুহাতে ফিফা এবার অফিশিয়ালি যে হাইড্রেশন ব্রেক বা পানি পানের বিরতি চালু করেছে, তা মূলত সম্প্রচারকারীদের জন্য এক বিশাল বিজ্ঞাপনের স্লটে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে যখনই এই বিশেষ বিরতি দেওয়া হচ্ছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্ট্রিম ব্রডকাস্টাররা খেলা বা কৌশলগত আলোচনার পরিবর্তে টেলিভিশন পর্দায় লম্বা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের পসরা সাজিয়ে বসছে। এই অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের স্লট ব্যবহার করে চ্যানেলগুলো বিপুল পরিমাণ রেভিনিউ বা মুনাফা তৈরি করছে, যা ম্যারাডোনার বাণিজ্যিকীকরণের তত্ত্বকে পুরোপুরি সত্য প্রমাণ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমী ও বোদ্ধারা ম্যারাডোনার সেই পুরনো সাক্ষাৎকারগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার করছেন এবং এটিকে একটি নিখুঁত ভবিষ্যৎবাণী বা প্রফেসি হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। খেলার মাঠে পানির বিরতির নামে যেভাবে কর্পোরেট বাণিজ্যের অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তা প্রমাণ করে যে ম্যারাডোনা বহু বছর আগেই আমেরিকার এই ব্যবসায়িক মডেলের আগ্রাসন নিখুঁতভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।

তবে উল্লেখযোগ্য যে, ফিফার হাইড্রেশন ব্রেক মূলত খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উচ্চ তাপমাত্রার ম্যাচে চালু করা হয়েছে। এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নতুন কোনো নিয়ম নয়; এর আগের বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও একই ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

২০২৬ বিশ্বকাপে অসাধারণভাবে মিলে যাচ্ছে ম্যারাডোনার ৮ বছর পুরোনো সেই ভবিষ্যদ্বাণী

আপডেটের সময় : ০৬:৪৩:৩৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান আলোচনা নতুন করে সামনে এনেছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার কয়েক বছর আগের একটি মন্তব্য। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক বিরতি নিয়ে সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তার সেই বক্তব্য।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে নির্বাচনের পর সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছিলেন ম্যারাডোনা। সে সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল ধীরে ধীরে অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের দিকে যেতে পারে এবং এতে খেলাটির ঐতিহ্যগত আবেগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তখন তিনি রসিকতার সুরে বলেছিলেন, আমেরিকানরা ফুটবল খেলাটির প্রথাগত ৪৫ মিনিটের দুটি হাফের নিয়মও পরিবর্তন করে দিতে পারে। তারা হয়তো এটিকে ২৫ মিনিট করে ৪টি কোয়ার্টারে ভাগ করতে চাইবে, যাতে ম্যাচের মাঝে বিরতির সংখ্যা বাড়ানো যায় এবং টেলিভিশনে বেশি বেশি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে কোটি কোটি ডলার আয় করা সম্ভব হয়।

ম্যারাডোনার এই বক্তব্যকে তখন অনেকে অতি-আবেগীয় মন্তব্য বলে উড়িয়ে দিলেও, বর্তমান বিশ্বকাপের বাস্তব চিত্র ভিন্ন কিছু বলছে না। আমেরিকার তীব্র গরম ও আর্দ্রতার অজুহাতে ফিফা এবার অফিশিয়ালি যে হাইড্রেশন ব্রেক বা পানি পানের বিরতি চালু করেছে, তা মূলত সম্প্রচারকারীদের জন্য এক বিশাল বিজ্ঞাপনের স্লটে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে যখনই এই বিশেষ বিরতি দেওয়া হচ্ছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্ট্রিম ব্রডকাস্টাররা খেলা বা কৌশলগত আলোচনার পরিবর্তে টেলিভিশন পর্দায় লম্বা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের পসরা সাজিয়ে বসছে। এই অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের স্লট ব্যবহার করে চ্যানেলগুলো বিপুল পরিমাণ রেভিনিউ বা মুনাফা তৈরি করছে, যা ম্যারাডোনার বাণিজ্যিকীকরণের তত্ত্বকে পুরোপুরি সত্য প্রমাণ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমী ও বোদ্ধারা ম্যারাডোনার সেই পুরনো সাক্ষাৎকারগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার করছেন এবং এটিকে একটি নিখুঁত ভবিষ্যৎবাণী বা প্রফেসি হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। খেলার মাঠে পানির বিরতির নামে যেভাবে কর্পোরেট বাণিজ্যের অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তা প্রমাণ করে যে ম্যারাডোনা বহু বছর আগেই আমেরিকার এই ব্যবসায়িক মডেলের আগ্রাসন নিখুঁতভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।

তবে উল্লেখযোগ্য যে, ফিফার হাইড্রেশন ব্রেক মূলত খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উচ্চ তাপমাত্রার ম্যাচে চালু করা হয়েছে। এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নতুন কোনো নিয়ম নয়; এর আগের বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও একই ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

Share this news as a Photo Card