নিউইয়র্ক ০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল

  • আপডেটের সময় : ০৭:১৪:০৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪-কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল। ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এটি ছড়িয়ে পড়ে।’ তার দাবি, ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথ অনুসরণ করছে। এ পথ পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, এটি ফ্যাসিবাদীদের পথ, ‘আয়নাঘরের পথ’ এবং বিনা বিচারে মানুষ হত্যার পথ। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমি মনে করি, যারা সচেতন নাগরিক, তাদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৪৬-৪৭ সাল থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনেকের স্মৃতিও সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এর অনেক কিছু এখন আর নেই। নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আপনারা সেই সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা জানেন, যাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর কী না অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতি ছিল, সেটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় আসার পর প্রায় সবাই ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তোলে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই কোনো না কোনোভাবে ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হলো পাসপোর্টের শক্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান, বহু হতাহতের আশঙ্কা 

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল

আপডেটের সময় : ০৭:১৪:০৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪-কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল। ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এটি ছড়িয়ে পড়ে।’ তার দাবি, ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথ অনুসরণ করছে। এ পথ পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, এটি ফ্যাসিবাদীদের পথ, ‘আয়নাঘরের পথ’ এবং বিনা বিচারে মানুষ হত্যার পথ। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমি মনে করি, যারা সচেতন নাগরিক, তাদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৪৬-৪৭ সাল থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনেকের স্মৃতিও সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এর অনেক কিছু এখন আর নেই। নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আপনারা সেই সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা জানেন, যাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর কী না অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতি ছিল, সেটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় আসার পর প্রায় সবাই ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তোলে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই কোনো না কোনোভাবে ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হলো পাসপোর্টের শক্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card