নিউইয়র্ক ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫ জেলায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

  • আপডেটের সময় : ০৮:১৫:০৩ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের পাঁচ জেলায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পৌরশহরের পৌরমঞ্চে আলোচনা সভা শেষে র‌্যালি বের করা হয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্যসচিব আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যালিটি বটতলা মোড়ে পৌঁছালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পালটাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় হাবিব হোটেলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে গলাচিপার আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক সংঘর্ষের কথা শুনেছেন বলে জানান। তবে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান তিনি। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশালে বিএনপির কর্মসূচি ও র‌্যালি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার হাতাহাতিতে জড়ান। নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিলের সামনে যাওয়া এবং স্লোগান দেওয়া নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে জ্যেষ্ঠ নেতা ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তা নিরসন করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে জমজম টাওয়ারের সামনে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল্লাহর অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির র‌্যালিতেও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মিশনপাড়া থেকে বের হওয়া মিছিলটি চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীদের মধ্যে মারধর শুরু হয়। পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান পরিস্থিতি শান্ত করেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষে পাঁচ পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

আন্দোলনে শিক্ষক-কৃষকদের ওপর করা মামলা প্রত্যাহার করছেন বিজয়

থাইল্যান্ডে নোঙর করল মার্কিন বিমানবাহী রণতরি

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫ জেলায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

আপডেটের সময় : ০৮:১৫:০৩ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের পাঁচ জেলায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পৌরশহরের পৌরমঞ্চে আলোচনা সভা শেষে র‌্যালি বের করা হয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্যসচিব আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যালিটি বটতলা মোড়ে পৌঁছালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পালটাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় হাবিব হোটেলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে গলাচিপার আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক সংঘর্ষের কথা শুনেছেন বলে জানান। তবে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান তিনি। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশালে বিএনপির কর্মসূচি ও র‌্যালি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার হাতাহাতিতে জড়ান। নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিলের সামনে যাওয়া এবং স্লোগান দেওয়া নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে জ্যেষ্ঠ নেতা ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তা নিরসন করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে জমজম টাওয়ারের সামনে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল্লাহর অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির র‌্যালিতেও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মিশনপাড়া থেকে বের হওয়া মিছিলটি চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীদের মধ্যে মারধর শুরু হয়। পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান পরিস্থিতি শান্ত করেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষে পাঁচ পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

Share this news as a Photo Card