নিউইয়র্ক ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যার পর ভারতে ভেসে আসা মাছ না খাওয়ার পরামর্শ

  • আপডেটের সময় : ০৯:২৮:৫২ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে আকস্মিক বন্যার পর ভেসে আসা দূষিত পানি ও অজানা প্রজাতির মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতের বিহার রাজ্য সরকার। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ত্রিশূলী নদীর পানি গণ্ডক ও কোশী নদী দিয়ে বিহারের উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করার পর ভেসে আসা অচেনা মাছ খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ময়লা-আবর্জনা ও পচা মৃতদেহের জীবাণু মিশে থাকায় বিহারের পশুপালন ও মৎস্য সম্পদ বিভাগ এবং নেপাল পুলিশ যৌথভাবে এসব মাছ কেনাবেচা ও খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।বিভাগটি সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিয়েছে যেন অচেনা বা অস্বাভাবিক চেহারার মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকা হয় এবং কোনো সন্দেহজনক মাছ দেখলে স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা বা প্রশাসনকে জানানো হয়। এসব মাছ খেয়ে বমি, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

হিমালয় অঞ্চল থেকে নেমে আসা বানের জলের সঙ্গে পলল, কাদা, পাথর, বড় গাছের গুঁড়ির পাশাপাশি ধসে যাওয়া সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধ্বংসাবশেষ, গাড়ি, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং এলপিজি সিলিন্ডার ভেসে আসছে। এছাড়া মানবদেহের অবশিষ্টাংশ ও মৃত পশুর কারণে পানির দূষণ চরম আকার ধারণ করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নলকূপ ও কুয়ার সঙ্গে বানের দূষিত জল মিশে গিয়ে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ ও ই-এর মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। এছাড়া জমা জলে মশার বংশবৃদ্ধির কারণে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া এবং চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, সীতামঢ়ী, কিষাণগঞ্জ, পূর্ণিয়া ও আরারিয়া জেলাগুলোতে ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক এবং আয়রনের মাত্রা এমনিতেই নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল। বর্তমান বন্যায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় শস্য ও শাকসবজির ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসক ড. পিভি সিং জানান, পানিবাহিত এই রোগগুলো মানুষের জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে, তাই দুর্গতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

আন্দোলনে শিক্ষক-কৃষকদের ওপর করা মামলা প্রত্যাহার করছেন বিজয়

থাইল্যান্ডে নোঙর করল মার্কিন বিমানবাহী রণতরি

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

নেপালে বন্যার পর ভারতে ভেসে আসা মাছ না খাওয়ার পরামর্শ

আপডেটের সময় : ০৯:২৮:৫২ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যার পর ভেসে আসা দূষিত পানি ও অজানা প্রজাতির মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতের বিহার রাজ্য সরকার। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ত্রিশূলী নদীর পানি গণ্ডক ও কোশী নদী দিয়ে বিহারের উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করার পর ভেসে আসা অচেনা মাছ খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ময়লা-আবর্জনা ও পচা মৃতদেহের জীবাণু মিশে থাকায় বিহারের পশুপালন ও মৎস্য সম্পদ বিভাগ এবং নেপাল পুলিশ যৌথভাবে এসব মাছ কেনাবেচা ও খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।বিভাগটি সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিয়েছে যেন অচেনা বা অস্বাভাবিক চেহারার মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকা হয় এবং কোনো সন্দেহজনক মাছ দেখলে স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা বা প্রশাসনকে জানানো হয়। এসব মাছ খেয়ে বমি, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

হিমালয় অঞ্চল থেকে নেমে আসা বানের জলের সঙ্গে পলল, কাদা, পাথর, বড় গাছের গুঁড়ির পাশাপাশি ধসে যাওয়া সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধ্বংসাবশেষ, গাড়ি, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং এলপিজি সিলিন্ডার ভেসে আসছে। এছাড়া মানবদেহের অবশিষ্টাংশ ও মৃত পশুর কারণে পানির দূষণ চরম আকার ধারণ করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নলকূপ ও কুয়ার সঙ্গে বানের দূষিত জল মিশে গিয়ে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ ও ই-এর মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। এছাড়া জমা জলে মশার বংশবৃদ্ধির কারণে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া এবং চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, সীতামঢ়ী, কিষাণগঞ্জ, পূর্ণিয়া ও আরারিয়া জেলাগুলোতে ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক এবং আয়রনের মাত্রা এমনিতেই নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল। বর্তমান বন্যায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় শস্য ও শাকসবজির ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসক ড. পিভি সিং জানান, পানিবাহিত এই রোগগুলো মানুষের জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে, তাই দুর্গতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card