নিউইয়র্ক ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরই আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হামলা

  • আপডেটের সময় : ০৯:৩০:১০ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার চাঁদনী চক এলাকার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে অবস্থিত আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আচমকা হামলে পড়ে বিজেপি সমর্থিত উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। একদল গেরুয়া বসনধারী ও পাগড়ি পরিহিত বিক্ষোভকারী ভবনের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং প্রবেশদ্বারের দুটি থামে গেরুয়া রঙ লেপে দেন।

গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন ২১ আগস্ট এ নিয়ে প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আনন্দবাজার পত্রিকা। 

শিরোনামটির তীব্র সমালোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আনন্দবাজার পত্রিকাকে ওই শিরোনাম প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় গেরুয়া বসন পরে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর পরেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে। এদিন দুপুরে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নামে কয়েকজন বি‌ক্ষোভকারী প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে হোয়াইট হাউজ নামে খ্যাত আনন্দবাজারের মূল ভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই ভবনের মূল ফটকের উপরে গেরুয়া একটি উত্তরীয় ঝুলিয়ে দিয়ে তারা বিক্ষোভ-অবস্থানে বসেন। 

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা সরকারের সমালোচনা করতেই পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনাও করতে পারে। কিন্তু গেরুয়া রংকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। পুলিশের কথা মেনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুধরে না-নিলে পরে বড় প্রতিবাদ হবে।’

কিছুক্ষণ অবস্থানের পরে মূল ফটকের পাশের দুই থামে গেরুয়া রঙ লাগিয়ে ‘আনন্দবাজার হায় হায়’ স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য দাবি করেছেন, দলের তরফে এমন কোনো বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়নি। এর আগেও যাদবপুরে তাণ্ডবের পর এবিভিপি বিজেপির ছাত্র সংগঠন নয় বলে দায় এড়িয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।

এদিকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেছেন, গেরুয়া রঙ লেপে দেওয়া দেয়ালটি আবারও সাদা রঙে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি ছবিটির ক্যাপশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে লেখেন— ‘উচ্চ যেথা শির’। 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরই আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হামলা

আপডেটের সময় : ০৯:৩০:১০ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কলকাতার চাঁদনী চক এলাকার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে অবস্থিত আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আচমকা হামলে পড়ে বিজেপি সমর্থিত উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। একদল গেরুয়া বসনধারী ও পাগড়ি পরিহিত বিক্ষোভকারী ভবনের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং প্রবেশদ্বারের দুটি থামে গেরুয়া রঙ লেপে দেন।

গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন ২১ আগস্ট এ নিয়ে প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আনন্দবাজার পত্রিকা। 

শিরোনামটির তীব্র সমালোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আনন্দবাজার পত্রিকাকে ওই শিরোনাম প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় গেরুয়া বসন পরে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর পরেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে। এদিন দুপুরে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নামে কয়েকজন বি‌ক্ষোভকারী প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে হোয়াইট হাউজ নামে খ্যাত আনন্দবাজারের মূল ভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই ভবনের মূল ফটকের উপরে গেরুয়া একটি উত্তরীয় ঝুলিয়ে দিয়ে তারা বিক্ষোভ-অবস্থানে বসেন। 

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা সরকারের সমালোচনা করতেই পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনাও করতে পারে। কিন্তু গেরুয়া রংকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। পুলিশের কথা মেনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুধরে না-নিলে পরে বড় প্রতিবাদ হবে।’

কিছুক্ষণ অবস্থানের পরে মূল ফটকের পাশের দুই থামে গেরুয়া রঙ লাগিয়ে ‘আনন্দবাজার হায় হায়’ স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য দাবি করেছেন, দলের তরফে এমন কোনো বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়নি। এর আগেও যাদবপুরে তাণ্ডবের পর এবিভিপি বিজেপির ছাত্র সংগঠন নয় বলে দায় এড়িয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।

এদিকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেছেন, গেরুয়া রঙ লেপে দেওয়া দেয়ালটি আবারও সাদা রঙে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি ছবিটির ক্যাপশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে লেখেন— ‘উচ্চ যেথা শির’। 

Share this news as a Photo Card