নিউইয়র্ক ০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আপিল বিভাগেও বহাল

  • আপডেটের সময় : ০৪:৩৩:৩৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ), নো ডেভেলপমেন্ট জোনে ও সংরক্ষিত পর্যটন এলাকার ভেতরে ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণের ওপর হাইকোর্ট যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

আদেশটি স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ এ-সংক্রান্ত রুল হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পিটিশনের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত আদেশ দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এসময় আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করার জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জানা যায়, আজ আদালতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন বেলার প্রধান নির্বাহী আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ আলী ও হাসানুল বান্না।

আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আদেশ দিয়েছেন জানিয়ে আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেন, আপিল বিভাগ বলেছেন, বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চলামান থাকবে, হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত। অবকাশ শেষে আদালত খোলার (২৫ অক্টোবর) পর দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। ফলে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমে হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহাল থাকছে।

হাইকোর্টের আদেশের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেলা জানিয়েছিল, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ও ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোনে’ কক্সবাজার পৌরসভা ওই সড়ক নির্মাণ করছে। ‘নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্প’-এর আওতায় জাইকার অর্থায়নে সৈকতের বিশাল এলাকা ভরাট করে প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হলে বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা এর প্রতিবাদ করেন। সড়ক নির্মাণের জন্য উপকূল সুরক্ষার অন্যতম প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে পরিচিত বহু বছরের বালিয়াড়ি নির্বিচার এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে সৈকতের পরিবেশের জন্য অপরিহার্য উদ্ভিদ সাগরলতাসহ লাল কাঁকড়া ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল।

সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে এবং নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এর আগে সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায় ও আদেশ দিয়েছেন বলে বেলা উল্লেখ করেছিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। 

এতে বলা হয়েছিল, সর্বোচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ অমান্য করে কক্সবাজার পৌরসভার সৈকতের বুক চিরে সড়ক নির্মাণের বিরুদ্ধে এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত রক্ষায় জনস্বার্থে রিটটি করে বেলা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কাশ্মীরে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ইন্টারনেট

ভাঙনের পথে যুক্তরাজ্য

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আপিল বিভাগেও বহাল

আপডেটের সময় : ০৪:৩৩:৩৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ), নো ডেভেলপমেন্ট জোনে ও সংরক্ষিত পর্যটন এলাকার ভেতরে ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণের ওপর হাইকোর্ট যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

আদেশটি স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ এ-সংক্রান্ত রুল হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পিটিশনের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত আদেশ দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এসময় আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করার জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জানা যায়, আজ আদালতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন বেলার প্রধান নির্বাহী আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ আলী ও হাসানুল বান্না।

আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আদেশ দিয়েছেন জানিয়ে আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেন, আপিল বিভাগ বলেছেন, বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চলামান থাকবে, হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত। অবকাশ শেষে আদালত খোলার (২৫ অক্টোবর) পর দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। ফলে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমে হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহাল থাকছে।

হাইকোর্টের আদেশের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেলা জানিয়েছিল, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ও ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোনে’ কক্সবাজার পৌরসভা ওই সড়ক নির্মাণ করছে। ‘নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্প’-এর আওতায় জাইকার অর্থায়নে সৈকতের বিশাল এলাকা ভরাট করে প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হলে বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা এর প্রতিবাদ করেন। সড়ক নির্মাণের জন্য উপকূল সুরক্ষার অন্যতম প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে পরিচিত বহু বছরের বালিয়াড়ি নির্বিচার এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে সৈকতের পরিবেশের জন্য অপরিহার্য উদ্ভিদ সাগরলতাসহ লাল কাঁকড়া ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল।

সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে এবং নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এর আগে সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায় ও আদেশ দিয়েছেন বলে বেলা উল্লেখ করেছিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। 

এতে বলা হয়েছিল, সর্বোচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ অমান্য করে কক্সবাজার পৌরসভার সৈকতের বুক চিরে সড়ক নির্মাণের বিরুদ্ধে এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত রক্ষায় জনস্বার্থে রিটটি করে বেলা।

Share this news as a Photo Card