নিউইয়র্ক ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ০৪:০০:০৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউস থেকে কার্যক্রম চালাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি এ–সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যম তিনটির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ তথ্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, ভুয়া খবর প্রচার করে এমন অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে নয়, বরং গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে তিনি সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সেখানে এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ভুয়া খবর প্রচারকারী অন্য সংবাদমাধ্যম কোনগুলো—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সংবাদমাধ্যমকে এভাবে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই সংশোধনী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক। তাঁর মতে, প্রথম সংশোধনীর অধীনে হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল একটি ‘পাবলিক ফোরাম’। তাই সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে সেখান থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।

তবে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরও শুক্রবার বিকেলে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস থেকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে তারা। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে তা এই মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত হবে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পলিটিকো জানিয়েছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতাধীন অধিকার রক্ষায় লড়াই করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যেকোনো প্রশাসনের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মন্ত্রিসভায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশের সংশোধনী অনুমোদন

‘মাথায় প্রভাবশালী নেতার হাত থাকায়’ আগেও অপরাধ করে পার পেয়ে যায় তুহিন

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০৪:০০:০৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউস থেকে কার্যক্রম চালাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি এ–সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যম তিনটির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ তথ্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, ভুয়া খবর প্রচার করে এমন অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে নয়, বরং গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে তিনি সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সেখানে এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ভুয়া খবর প্রচারকারী অন্য সংবাদমাধ্যম কোনগুলো—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সংবাদমাধ্যমকে এভাবে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই সংশোধনী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক। তাঁর মতে, প্রথম সংশোধনীর অধীনে হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল একটি ‘পাবলিক ফোরাম’। তাই সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে সেখান থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।

তবে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরও শুক্রবার বিকেলে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস থেকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে তারা। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে তা এই মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত হবে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পলিটিকো জানিয়েছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতাধীন অধিকার রক্ষায় লড়াই করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যেকোনো প্রশাসনের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

Share this news as a Photo Card