রাজধানীর পল্লবী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে তিনি জামিননামা জমা দেন।
এর আগে গত ২১ জুলাই অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে রাজধানীর পল্লবী থানায় এই মামলা করেন গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। আলোচিত এ মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম।
মামলার আসামিরা হলেন- গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ারে’ তার বোনের বাসায় থাকতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম পল্লবীর ওই বাসাটিতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে এটি জানান এবং নজরুল ইসলামকেও এই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এদিকে সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে গাজী নজরুল ইসলামকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। এতে নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপনে ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালায় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান ওবায়দুরকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। এরপর সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওই সময় ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আহতাবস্থায় তাকে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর থেকে আসামিরা ওবায়দুরকে যেখানেই পাবে, সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকে বলেও মামলার বিবরণে উল্লেখ করেছেন বাদী।



















